সুনামগঞ্জে শেষ মুহূর্তের লড়াই: ধানের শীষের সামনে জামায়াত ও বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ

সুনামগঞ্জে শেষ মুহূর্তের লড়াই: ধানের শীষের সামনে জামায়াত ও বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ

খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনেই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। শুরুতে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোরালো তৎপরতায় লড়াই এখন বহুমুখী হয়ে উঠেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রচারণাকে পুঁজি করে ভোটের সমীকরণ পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১৯ জন রাজনৈতিক দলের এবং ৪ জন স্বতন্ত্র। স্বতন্ত্রদের মধ্যে বিএনপির দুই প্রভাবশালী সাবেক নেতা রয়েছেন, যাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আসনভিত্তিক নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র


ভোটের পরিসংখ্যান ও প্রস্তুতি
এম.এম/সকালবেলা

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও তাহিরপুর): এখানে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ) ও জামায়াতের তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা)-এর মধ্যে মূল লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার (বই) প্রচারণায় রয়েছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির জোয়ার থাকলেও জামায়াত তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা): বিএনপির নাসির উদ্দিন চৌধুরীর (ধানের শীষ) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির (দাঁড়িপাল্লা)। শিশির মনির দীর্ঘদিন সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব তৈরি করেছেন। এছাড়া সিপিবি প্রার্থী নিরঞ্জন দাস (কাস্তে) ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ): এই আসনে সর্বোচ্চ ৭ জন প্রার্থী লড়ছেন। বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদের (ধানের শীষ) পথে প্রধান কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন (তালা)। আনোয়ার হোসেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার আঞ্চলিক ভোটগুলোকে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন। এছাড়া খেলাফত মজলিসের সাবেক এমপি শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা) ও এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল) মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর): এখানে লড়াই চতুর্মুখী। বিএনপির অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলামের (ধানের শীষ) সাথে লড়াই জমিয়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মোটরসাইকেল) এবং জামায়াতের অ্যাডভোকেট সামছ উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা)। জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদা (লাঙ্গল) এবং ইসলামী আন্দোলনের শহীদুল ইসলাম (হাতপাখা) নিজস্ব ভোট ব্যাংক নিয়ে লড়াইয়ে আছেন।

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার): এই আসনে বিএনপির তিনবারের সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন (ধানের শীষ) প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে। তবে জামায়াতের আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম (দাঁড়িপাল্লা) এবং খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেওয়াল ঘড়ি) তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

  • মোট ভোটার: ২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন।

  • ভোটকেন্দ্র: ৭২০টি (এর মধ্যে ৩২৩টি দুর্গম এলাকায়)।

  • নির্বাচনী কর্মকর্তা: ১৪,১৪৬ জন।

  • পোস্টাল ব্যালট: ১৮,০৮৭ জন ভোটার এই সুবিধায় ভোট দেবেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভিজিল্যান্স টিম মাঠে রয়েছে। বিএনপি নেতারা পাঁচ আসনেই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের সুশৃঙ্খল প্রচারণা এবং বিদ্রোহীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ভোটের ফলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

মন্তব্য করুন