খামেনি হত্যায় ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলো: তীব্র নিন্দা ও শোক

খামেনি হত্যায় ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলো: তীব্র নিন্দা ও শোক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি রাজনৈতিক দল ও আলেম সমাজ গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

সোমবার (২ মার্চ) পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতারা এই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তারা অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সেই দেশের প্রধান ধর্মীয় নেতাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যা করা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। তিনি এই ঘটনাকে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি এই আগ্রাসন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। তিনি শোকাহত ইরানি জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট অবজ্ঞা। এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করেছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতার ওপর এই আক্রমণ কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য এক বড় হুমকি। তারা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ ও ওআইসি-কে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলা বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও নিজ দেশের আইন লঙ্ঘন করে এই হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে শতাধিক শিশুকে হত্যার ঘটনাকে তিনি মানবতাবিরোধী চরম অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেন। সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জাতীয় সংসদে এই হামলার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানান। সমাবেশে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন