আহসান এইচ মনসুরের দেড় বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার

আহসান এইচ মনসুরের দেড় বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার

সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের দায়িত্ব পালনের শেষ দিন বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে (আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে)। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গ্রস হিসাবে এই রিজার্ভ বর্তমানে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে রিজার্ভে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি ঘটিয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার যখন শপথ নেয়, তখন দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী তা ছিল ২০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সেই সন্ধিক্ষণে অর্থনীতি ছিল টালমাটাল। এর আগে ২০২১ সালে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে উঠলেও পরবর্তী কয়েক বছরে আমদানির চাপ ও নীতিগত দুর্বলতায় তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের মে মাসে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্ন অবস্থান।

আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর বাস্তবমুখী বিনিময় হার নীতি, রেমিট্যান্স প্রণোদনা এবং কঠোর আমদানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেন। ফলে প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি ফেরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে ২১ হাজার ৯৯৯ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন ডলার বাজার থেকে কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের পাহাড়সম উচ্চতা থেকে ২০২৪ সালের তলানিতে নেমে আসা অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশেপাশে স্থিতিশীল রাখা এবং বাজার থেকে ৫ হাজার ৪৬৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি কেনার সক্ষমতা তৈরি করা ছিল এই পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি। বিদায়লগ্নে ৩২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রেখে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো নিশ্চিত করে গেলেন।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন