স্ত্রী বাবার বাড়ি গেলে স্বামীদের খুশি হওয়ার রহস্য

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
স্ত্রী বাবার বাড়ি গেলে স্বামীদের খুশি হওয়ার রহস্য

সংসার মানেই দায়িত্ব, নিয়ম আর ভালোবাসার এক জটিল রসায়ন। বিয়ের প্রথম কয়েক বছর দম্পতিদের মধ্যে সারাক্ষণ কাছাকাছি থাকার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তাতে যোগ হয় অভ্যস্ততা ও রুটিন মাফিক জীবন। অনেক সময় দেখা যায়, স্ত্রী কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বললে স্বামী মুখে ‘যেও না’ বললেও মনে মনে বেশ খুশি হন। সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই খুশির পেছনে ভালোবাসা কমে যাওয়া নয়, বরং ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘পার্সোনাল স্পেস’ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী স্বামীদের মতে, স্ত্রী বাড়িতে থাকলে প্রতিদিনের খাওয়া, দাওয়া, ঘুমানো কিংবা বাজার-সদাই নিয়ে এক ধরণের ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। স্ত্রী বাবার বাড়ি গেলে স্বামীরা হঠাৎ করেই যেন সেই পুরনো ব্যাচেলর জীবনের স্বাদ ফিরে পান। রাত জেগে ফুটবল খেলা দেখা, ঘর অগোছালো রাখা কিংবা বন্ধুদের সাথে দীর্ঘ আড্ডা—এই ছোট ছোট স্বাধীনতাগুলো তখন বেশ উপভোগ্য মনে হয়। অনেক স্বামীই জানিয়েছেন, প্রতিদিনের ‘তোয়ালে ঠিক জায়গায় রাখো’ কিংবা ‘বাইরের খাবার কেন খেলে’—জাতীয় বকুনি থেকে কয়েক দিনের এই মুক্তি তাদের মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীদের অতি-সন্দেহ প্রবণতার কারণেও অনেক স্বামী সাময়িকভাবে একটু একা থাকতে পছন্দ করেন।

তবে এই ‘স্বাধীনতার আনন্দ’ সাধারণত খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না। প্রথম দু-তিন দিন একা থাকতে ভালো লাগলেও খুব দ্রুতই ঘরজুড়ে এক অদ্ভুত শূন্যতা নেমে আসে। খাবার টেবিলে ডাক দেওয়ার কেউ না থাকা, রুমের নীরবতা এবং রাতে গল্প করার মানুষের অভাব স্বামীদের মনে করিয়ে দেয় যে, তাদের জীবনে স্ত্রীর গুরুত্ব কতটা গভীর। যারা শুরুতে খুশিতে আত্মহারা হন, তারাই কয়েক দিন পর স্ত্রীর ছোট ছোট বিরক্তিকর অভ্যাসগুলো মিস করতে শুরু করেন। মোবাইলে ‘খেয়েছো কি না’—এমন মেসেজ বা ফোন না এলে তখন স্বাধীনতার স্বাদ তেতো মনে হতে থাকে।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই সাময়িক দূরত্ব মূলত দাম্পত্য সম্পর্কের গভীরতাই বাড়িয়ে দেয়। একজন মানুষ দীর্ঘ সময় সাথে থাকলে তার অভাব অনুভব করা যায় না, কিন্তু কয়েক দিনের অনুপস্থিতি বুঝিয়ে দেয় সেই মানুষটি জীবনের কতটা জায়গা জুড়ে আছে। দিনশেষে সব স্বাধীনতা আর আড্ডার আনন্দ হার মানে প্রিয়জনের পরিচিত সেই কণ্ঠস্বরের কাছে—‘শোনো, আমি কাল বাসায় ফিরছি।’ অর্থাৎ, স্বামীদের এই সাময়িক খুশি আসলে একঘেয়েমি থেকে ক্ষণিকের বিরতি মাত্র, যা দিনশেষে ফিরে আসে একই ভালোবাসার ঠিকানায়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন