চোখের নীচে ফোলা ভাব? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার
জীবনযাপন ডেস্ক : সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় নিজের মুখ দেখার সময় চোখের নিচে ফোলা ভাব বা ‘আই ব্যাগস’ (Eye Bags) দেখলে আমরা সাধারণত ধরে নিই যে, আগের রাতে হয়তো ঠিকমতো ঘুম হয়নি। কিন্তু অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, সব আই ব্যাগসের কারণ শুধু কম ঘুম নয়; বরং বেশি ঘুমালেই যে এই সমস্যা রাতারাতি দূর হয়ে যাবে, এমনটাও কিন্তু নয়।
গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জীবনযাপন’ ও ‘ত্বকের যত্ন, আধুনিক কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিনে চোখের নিচের এই অস্বস্তিকর ফোলা ভাবের মূল কারণ, প্রকারভেদ এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
কসমেটিক সার্জন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের নিচের এই পরিবর্তনের পেছনে মানুষের জিনগত বা বংশগত গঠন থেকে শুরু করে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক কারণ থাকতে পারে। সঠিক কারণ না জেনে অন্ধের মতো বাজারচলতি নানাবিধ আই ক্রিম বা চড়া ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করলে চোখের চারপাশের অত্যন্ত সংবেদনশীল ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই যেকোনো চিকিৎসা বা রূপচর্চা শুরু করার আগে সমস্যার আসল উৎস জানা জরুরি।
মানুষের চোখের নিচের অংশটি অত্যন্ত পাতলা, নরম এবং স্পর্শকাতর। এই চামড়ার তলায় মূলত পেশি এবং চর্বির একটি সূক্ষ্ম স্তর থাকে। চিকিৎসকদের মতে, চোখের নিচের ফোলা ভাব বা আই ব্যাগস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে:
অস্থায়ী ফোলা ভাব এটি মূলত চোখের নিচের সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত তরল বা পানি জমা হওয়া, তীব্র অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা, খাবারে অতিরিক্ত লবণাক্ত উপাদান খাওয়া, মদ্যপান কিংবা নিয়মিত ধূমপানের কারণে সাময়িকভাবে হতে পারে। কাঠামোগত পরিবর্তন বয়সের স্বাভাবিক নিয়মে মানুষের চোখের নিচের পেশি ও লিগামেন্টগুলো আলগা ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চামড়ার তলায় সুরক্ষিত থাকা চর্বি বা ফ্যাট পডসগুলো সামনের দিকে ঝুলে পড়ে। অনেকের আবার বংশগত বা জিনগত কারণেও খুব কম বয়সেই এই ধরনের কাঠামোগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সমস্যার প্রাথমিক অবস্থায় বা অস্থায়ী ফোলা ভাবের ক্ষেত্রে কিছু সহজ ঘরোয়া অভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন—
কোল্ড কমপ্রেস: ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা চামচ বা বরফ পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে চোখের নিচে কয়েক মিনিট হালকাভাবে ধরে রাখলে সাময়িক রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ফোলা ভাব দ্রুত কমে যায়। ঘুমানোর পজিশন: রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বালিশ দিয়ে মাথা সামান্য উঁচুতে রাখলে চোখের নিচে তরল বা ফ্লুইড জমতে পারে না। লাইফস্টাইল সংশোধন: দৈনিক খাবারে বাড়তি লবণের পরিমাণ কমানো, সারা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং ধূমপানের অভ্যাস পুরোপুরি বর্জন করা প্রয়োজন। সঠিক স্কিনকেয়ার: চিকিৎসকের পরামর্শে রেটিনয়েড ও ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদানযুক্ত কসমেটিকস চোখের খুব কাছে ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
চোখের ফোলা ভাবের সমস্যা যদি স্থায়ী, বংশগত বা গুরুতর রূপ নেয়, তবে কসমেটিক সার্জনরা আধুনিক বিজ্ঞানের সহায়তায় বেশ কিছু উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে থাকেন
চোখের নিচে গভীর গর্ত থাকার কারণে যদি চারপাশের ত্বককে ফোলা বা আই ব্যাগস মনে হয়, তবে বিশেষ ডার্মাল ফিলার ইনজেকশনের মাধ্যমে তা ভরাট করে সমান্তরাল করা যায়।লেজার চোখের নিচের চামড়ার সামান্য শিথিলতা, আলগা ভাব বা বলিরেখা দূর করতে আধুনিক স্কিন-টাইটেনিং লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। লোয়ার ব্লেফারোপ্লাস্টি: চোখের নিচের চর্বি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ঝুলে পড়ে বা চামড়া স্থায়ীভাবে আলগা হয়ে যায়, তবে ছোট ও নিরাপদ একটি প্লাস্টিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চামড়া অপসারণ করা হয়। কসমেটিক সার্জনদের মতে, এই লোয়ার ব্লেফারোপ্লাস্টি (Lower Blepharoplasty) চিকিৎসার মাধ্যমে চোখে নিমেষেই একটি সতেজ, তরুণ ও প্রাণবন্ত লুক ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
জান্নাত সকালবেলা
|