বাড়ি ঠাণ্ডা রাখতে ও পাখি পাঠাতে ১০টি উপকারী গাছের তালিকা
জীবনযাপন ডেস্ক: প্রচণ্ড খরতাপের দিনে বাড়ির চারপাশ ও ভেতরের পরিবেশ ঠান্ডা এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় রাখতে সবুজ গাছপালার জুড়ি নেই। বড় বড় গাছ যেমন প্রাকৃতিকভাবে প্রস্বেদনের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, তেমনি এর ঘন ছায়া এবং মিষ্টি ফল ও ফুল দেশীয় নানাবিধ পাখিকে আকর্ষণ করে।
বাড়ির উঠান, ফাঁকা সীমানা কিংবা নিজস্ব বাগানে রোপণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এমন ১০টি গাছের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
নিমগাছ: দ্রুত বর্ধনশীল নিমগাছ প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করে দ্রুত ঘন ছায়া তৈরি করতে পারে, যা বাড়ির বাতাসকেও প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ রাখে।
বটগাছ: বড় জায়গা থাকলে বটগাছ লাগানো যেতে পারে। এর বিশাল আকৃতির পাতার ছাউনি যেমন ছায়া জোগায়, তেমনি এর ছোট ফল পাখির অন্যতম প্রধান খাবার।
কদমগাছ: দ্রুত বেড়ে ওঠার পাশাপাশি কদমগাছ পরিবেশকে শীতল রাখে। বর্ষায় এর সুবাসিত গোলাকার ফুল চারপাশ রূপময় করে তোলে।
রেইন ট্রি: প্রশস্ত ও ঘন ছাদ তৈরি করতে সক্ষম এই গাছ ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি বড় খোলা জায়গার পরিবেশকে শান্ত রাখে।
আমগাছ: ঘন চিরসবুজ পাতার কারণে আমগাছ খুব ভালো ছায়া দেয়। এর পাশাপাশি সুস্বাদু আম পাকার সময় বাগানে হরেক রকম পাখির সমাগম ঘটে।
জামগাছ: ঘন ডালপালা যুক্ত জামগাছ চড়া রোদ আটকে ছায়া দেয়। এর মিষ্টি ফল মানুষ ও পাখি উভয়েরই দারুণ প্রিয়।
কৃষ্ণচূড়া: গ্রীষ্মের দাবদাহে এর রক্তিম ফুল চারপাশ সাজানোর পাশাপাশি এর বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা পথ ও আঙিনায় স্নিগ্ধ ছায়া ফেলে।
কাঁঠাল গাছ: ঘন বড় পাতার কারণে কাঁঠাল গাছ ঘরের আশপাশে প্রাকৃতিকভাবে শীতল আবহ তৈরি করতে সক্ষম।
পেয়ারাগাছ: ছোট জায়গার জন্য পেয়ারাগাছ আদর্শ। ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি পাকা পেয়ারার লোভে প্রচুর শালিক, টিয়া ও বুলবুলি পাখির আনাগোনা বাড়ে।
রাধাচূড়া: দ্রুত বেড়ে ওঠা এই গাছে চমৎকার হলুদ ফুল ফোটে। সুন্দর আবহ ও ছায়া তৈরিতে এটি বেশ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ সতর্কতা:
গাছ সাধারণত প্রস্বেদন (Evaporation) এবং সরাসরি ছায়া প্রদানের মাধ্যমে তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক করে। তবে বাড়ির সীমানা দেয়াল বা ভবনের একেবারে গা ঘেঁষে অবকাঠামোর ক্ষতি করতে পারে এমন শিকড়যুক্ত বড় গাছ না লাগিয়ে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
|