চা শ্রমিকদের ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ণ
চা শ্রমিকদের ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রতিকূল আবহাওয়ায় চা-শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রয়াসকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী।

সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে সরাসরি রেইনকোট তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সমন্বয়ে বেসরকারি খাতের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের আওতায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রেইনকোট বিতরণের উৎস ও অংশীদারিত্ব:

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত ২০ হাজার রেইনকোটের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করেছে।

উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে সবাই যদি একটু একটু করে এগিয়ে আসেন, তবে যেকোনো জটিল ও বড় সমস্যার টেকসই সমাধান করা সম্ভব।" মানবিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বেসরকারি খাতকে সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও জানান, সুবিধাবঞ্চিত ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে যেসব প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে, সরকার সর্বদাই তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জোগাবে।

বেসরকারি খাতের দায়বদ্ধতা ও চা-শ্রমিকদের কৃতজ্ঞতা:

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করাও বেসরকারি খাতের নৈতিক দায়িত্বের অংশ। আগামীতেও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চা-শ্রমিকসহ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে তাঁরা যুক্ত থাকবেন।

সমাজকল্যাণমূলক এ উদ্যোগের জন্য চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ সরকার এবং সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ সময় মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায় চা-শ্রমিকদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সরাসরি চা-পাতা উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য চা-শ্রমিকের মধ্যে কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী ও শশিকা ব্যানার্জি, ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগরের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত মন্ত্রী ও বিশেষ অতিথিবর্গ:

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন।

সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের এমপি নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মো. জিকে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এসএম ফয়সাল।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন বাপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, বাপির উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, বাপির কার্যকরী সদস্য মিজ সিমিন রহমান, বাপির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম; শেভরন বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক মো. ইমরুল কবির, অপারেশনস পরিচালক আশিক শেহজাদ রহমান, হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট একেএম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স চিফ গোলাম হাবিব।

মন্তব্য করুন