হাঁটুর জটিল অস্ত্রোপচারের পরও মিলল না ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অনুমতি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ণ
হাঁটুর জটিল অস্ত্রোপচারের পরও মিলল না ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অনুমতি
চিকিৎসা চলাকালীন ওয়ার্ক ফ্রম হোম প্রত্যাখ্যান ও কর্পোরেট নমনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন

জীবনযাপন ডেস্ক: হাঁটুর জটিল অস্ত্রোপচারের পর শারীরিকভাবে কয়েক সপ্তাহ অফিসে যাতায়াত করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এ কারণে সাময়িকভাবে বাসা থেকে কাজের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) অনুমতি চেয়েছিলেন ভারতের পুনেতে কর্মরত এক ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলী। কিন্তু তাঁর পুরো কাজটি অনলাইনেই সম্পাদন করা সম্ভব হলেও প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ (এইচআর) বিভাগ কঠোরভাবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী ওই প্রকৌশলী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটের 'ইন্ডিয়ান ওয়ার্কপ্লেস' নামক ফোরামে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে হাঁটাচলা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাই সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাসা থেকেই সব দায়িত্ব সামলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এইচআর থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কোনো সুবিধাই বহাল নেই।

ওই কর্মীর দাবি, একই কোম্পানিতে অতীতে অন্য কয়েকজন সহকর্মী তাঁদের বিভাগীয় ম্যানেজারের মৌখিক অনুমোদনে বেশ কিছুদিন বাসা থেকে কাজ করেছেন। এমনকি রিমোট ওয়ার্কের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সফটওয়্যারের লাইসেন্স ফি নিজের পকেট থেকে দিতে চাইলেও এইচআর নমনীয় হয়নি।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় কারণ ওই কর্মী বর্তমানে নোটিশ পিরিয়ডে রয়েছেন। সম্পূর্ণ চিকিৎসাজনিত ছুটি নিলে তাঁর চাকরি ছাড়ার নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে যেত। মূলত সেই জটিলতা এড়াতেই তিনি ছুটির বদলে কাজের সুবিধা চেয়েছিলেন।

বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও আইনি বাস্তবতা:

স্বাস্থ্যগত কারণে ওয়ার্ক ফ্রম হোম দেওয়া না দেওয়া নিয়ে এ ধরনের দ্বন্দ নতুন নয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ কর্মীদের নমনীয় কর্মপরিবেশের আবেদন না মানায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের 'জব একমোডেশন নেটওয়ার্ক' (JAN)-এর গবেষণা অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতায় নমনীয় কাজের সুযোগ কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই লাভজনক।

ভারতের বর্তমান শ্রম আইন অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' কোনো কর্মীদের আইনগত মৌলিক অধিকার নয়; এটি সম্পূর্ণ কোম্পানির নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্তের এখতিয়ারভুক্ত। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশেষ মেডিকেল পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোই আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির পরিচায়ক।

ঘটনাটি রেডিটে শেয়ারের পর নেটিজেনরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ উপহাস করে পরামর্শ দিয়েছেন—হুইলচেয়ার নিয়ে অফিসে গিয়ে এইচআর-কে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝানো উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও অফিসে উপস্থিতিতে জোর দেওয়ায় মানবিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সাথে প্রতিষ্ঠানের কঠোর নীতির দ্বন্দ দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে।

মন্তব্য করুন