পশ্চিমবঙ্গের তারাপীঠে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৮, আহত ২৮
অগ্নিদগ্ধ ও মারাত্মকভাবে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ২৮ জনকে হোটেল ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৭ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তারাপীঠ থানার নিকটবর্তী ‘বিদেশিনী’ নামের ওই চারতলা বিশিষ্ট হোটেলটিতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক মুহূর্তে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত অতিথি ও পুণ্যার্থীদের সিংহভাগই ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় তাঁরা দ্রুত নিরাপদে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পরপরই হোটেলটি সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও হোটেলের চরম সুরক্ষা গাফিলতির বিষয়গুলো সামনে আসছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ছাদের মূল দরজা বন্ধ থাকা, জরুরি বহির্গমন (emergency exit) দরজায় তালা মারা থাকা এবং বিপদের সময় ফায়ার অ্যালার্ম না বাজার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাণ বাঁচাতে অনেক অতিথি হোটেলের ব্যালকনি ও পাশের গাছের ডাল ধরে নিচে নেমে আসার চেষ্টা করেন।
বীরভূম জেলা পুলিশ এই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে নিহত ও আহতদের তালিকা প্রকাশ করেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তারাপীঠের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
|