ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেসে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৫.৯ মাত্রার আফটারশক
অনলাইন ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ৫.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হেনেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরের দিকে ভূগর্ভস্থ ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। ভূ-উপগ্রহের তথ্যানুযায়ী, এই আফটারশকটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস’ (জিএফজেড)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের এই আফটারশকটির প্রাথমিক ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৫৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ এবং ১২১.৫৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূকম্পনটি তীব্র হলেও এতে নতুন করে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে মাত্র কয়েক দিন আগে পূর্ব ফ্লোরেস দ্বীপের ছয়টি প্রশাসনিক রিজেন্সিতে ৭.৭ মাত্রার এক প্রলয়ঙ্করী শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই ভয়াবহ দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসলীলার প্রেক্ষাপটে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।
দুর্গত এলাকায় রবিবার দিনভর দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত ও নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতা অব্যাহত ছিল। দুর্গম অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও ফ্লোরেসজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিক্কা, মাঙ্গারাই, নাগেকেও, বিমা ও সেলায়ারের মতো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তৈরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। আগের সেই প্রধান ভূমিকম্পের তাণ্ডবে প্রায় ৯১৪টি বাসাবাড়ি, ৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩৮টি সরকারি দফতর ও ভবন পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে আফটারশক হওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষদের মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
|