যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরানের ‘নির্ভুল’ সামরিক হামলার প্রস্তুতি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরানের ‘নির্ভুল’ সামরিক হামলার প্রস্তুতি
হরমুজ প্রণালী ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক ও কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ নতুন করে সহিংস রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় পুরো বিশ্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পরিচালিত দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আবার সামরিক অভিযান জোরদার করার কড়া হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের এক উচ্চপদস্থ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরান ‘সময়মতো ও নির্ভুল’ সামরিক হামলা চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই।

থমকে যাওয়া শান্তি আলোচনা ও হরমুজ প্রণালী দ্বন্দ্ব:

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে গত ১৭ জুন উভয় পক্ষ ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছায়, যার অন্যতম শর্ত ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার একটি স্থায়ী সমাধান বের করা।

তবে সোমবার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও স্পর্শকাতর কোনো বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের একমাত্র রুট 'হরমুজ প্রণালী'। ইরানের দাবি, সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পরিচালনার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব তাদের। তবে মার্কিন প্রশাসন এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে এবং জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প ওই সমঝোতা স্মারক বাতিল ঘোষণা করেন।

আইআরজিসির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা:

প্রকাশ্যে মুখোমুখি অবস্থান থাকলেও পর্দার অন্তরালে ওয়াশিংটন কৌশলগত যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিয়স’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ এক কুর্দি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে মার্কিন বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, যা ফক্স নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।

মার্কিন প্রশাসনের প্রধান উদ্বেগ হলো— আলোচনায় বসা সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকর্তারা আদৌ সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিনিধিত্ব করেন কি না। তবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার জানিয়েছেন, ইরান সরকারের বিভিন্ন স্তরের সাথে ওয়াশিংটনের ব্যাক-চ্যানেল যোগাযোগ এখন সবচেয়ে সক্রিয় রয়েছে।

ইরান অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয়:

দীর্ঘ সামরিক স্থবিরতা ও ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের জাতীয় অর্থনীতি এখন অভূতপূর্ব সঙ্কটে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পুনর্নির্মাণ খরচ মেটাতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছে তেহরান। দেশটির নীতি-নির্ধারকদের বড় একটি অংশের আশঙ্কা, নতুন করে মার্কিন অবরোধ জোরালো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও বিপন্ন হতে পারে, যা দেশে নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জোগান দেবে।

মন্তব্য করুন