বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ জেলের নাম, কারাগারে বসছে এআই ক্যামেরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ণ
বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ জেলের নাম, কারাগারে বসছে এআই ক্যামেরা
কারা ব্যবস্থাপনাকে মানবিক, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করতে একগুচ্ছ নতুন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কথা জানান আইজি প্রিজনস।

ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ জেল’-এর প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে দেশের প্রতিটি কারাগারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত বিশেষ ক্যামেরা, বডি স্ক্যানার, বডি ক্যামেরা ও উচ্চমাত্রার মোবাইল জ্যামিং প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ জোরকদমে চলছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির আধুনিক রূপরেখা:

কারা মহাপরিদর্শক জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে পুরো কারা প্রশাসনকে মানবিক, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানের জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে একগুচ্ছ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সুরক্ষা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালনরত কারা সদস্যদের শরীরে এআই বডি ক্যামেরা, প্রবেশমুখে অত্যাধুনিক লাগেজ স্ক্যানার, গ্রাউন্ড সুইপিং মেশিন এবং সম্পূর্ণ এআই নির্ভর সিসিটিভি মনিটরিং নেটওয়ার্ক যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সব কারাগারকে নিজস্ব উচ্চগতির ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স এবং ডিজিটাল টিম ট্র্যাকার চালু করা হয়েছে।

ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনা ও সংশোধন কেন্দ্র:

শুধু বহিরাগত নিরাপত্তা নয়, বন্দি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী ডিজিটালাইজেশন আনা হচ্ছে। কারাগারে অবস্থানরত প্রতিটি বন্দির বিস্তারিত ডেটা সমৃদ্ধ 'Comprehensive Prisoner Database' নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বজনদের সাথে কথা বলা এবং ভার্চুয়াল কোর্টে হাজিরা নিশ্চিতের অবকাঠামো গড়া হয়েছে।

বন্দিদের সংশোধন ও সমাজে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক সেশন অব্যাহত রয়েছে। আইনের যুগোপযোগীকরণে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’-এর রূপরেখা ও খসড়া।

পলাতক বন্দি ও মোবাইল জব্দ চিত্র:

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আইজি প্রিজনস জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দেশের ৫টি কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের সুযোগে মোট ২,২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়। যার মধ্যে কেবল নরসিংদী কারাগার থেকেই পালায় ৮২৬ জন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ১,৫৮৭ জন পুনরায় গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করলেও এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে, যাদের অনুসন্ধানে কাজ চলছে।

অন্যদিকে, কারাগারে কোনো ধরনের বেআইনি সুযোগ-সুবিধা বা মাদক বরদাশত না করার ঘোষণা দিয়ে আইজি বলেন, "গত এক বছরে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কারা প্রশাসনে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নিজস্ব মাদক টেস্টিং ডিভাইস আনা হয়েছে।"

কারাগারের জনবল ঘাটতি মেটাতে ইতোমধ্যে ১,৮৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন করা হয়েছে এবং কেরানীগঞ্জে বন্দিদের জন্য স্বতন্ত্র কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

মন্তব্য করুন