সেটে শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে শুট করতে হয়েছিল:দিয়া মির্জা

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ
সেটে শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে শুট করতে হয়েছিল:দিয়া মির্জা
‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন দিয়া মির্জা (ছবি: সংগৃহীত)।

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে শোবিজে পা রাখা বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন বহু প্রশংসিত কাজ। তবে ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি তাঁকে দিয়েছিল এক অনন্য পরিচিতি। ইমরান হাশমির বিপরীতে সেই গানের দৃশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করলেও ক্যামেরার পেছনের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সম্প্রতি ‘বলিউড বাবল’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সেই গানের শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানান, সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষ কলাকুশলীর সামনে তাঁকে কার্যত শুধু অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল, যা তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল।

শুরুর দিকে বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন অভিনেত্রী। কারণ রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে নিজের শরীর ও অবয়ব নিয়ে তখন তাঁর আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। তবে ইউনিটের পেশাদার পরিবেশের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তাঁর জীবনে এক অদ্ভুত মুক্তি ও আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।

দিয়া মির্জা বলেন, “এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমন এক মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল, যা আমি আগে কখনো কল্পনাও করিনি। নৃত্যপ্রশিক্ষক বৈভবী মার্চেন্টের অসাধারণ পরিচালনার কারণেই আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে দৃশ্যটি শেষ করতে পেরেছিলাম। সেটে উপস্থিত প্রত্যেকেই এমন এক পেশাদার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যাতে আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করি।”

কঠিন সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী আরও বলেন, “একজন নারী হিসেবে সম্ভবত এটিই ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। কারণ সেটের ভেতর শত শত পুরুষের সামনে আমাকে কার্যত অন্তর্বাস পরে শুটিংয়ে অংশ নিতে হয়েছিল।”

তবে দৃশ্যটি করতে রাজি হওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে দিয়া বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হতে পারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ ততদিনে আমি বুঝে গিয়েছিলাম—একজন শিল্পীর জন্য চরিত্রের মূল সত্য ও তার ভেতরের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা সবচেয়ে জরুরি। চরিত্রের দাবি স্পষ্ট হলে সেটে ৫০০ জন মানুষ আছেন নাকি ১০০০ জন, তা আর কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।”

হায়দরাবাদের রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হিসেবে এই গানটি তাঁর মানসিকতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বলে জানান দিয়া। তিনি বলেন, “আমি খুব সাধারণ ও রক্ষণশীল পরিবেশে বড় হয়েছি। নিজের শরীর নিয়ে একসময় বেশ হীনম্মন্যতায় ভুগতাম। কিন্তু ওই ছবির সাহসী কাজই আমার ভেতরের দ্বিধা ভেঙে নিজের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে এনেছিল।”

মন্তব্য করুন