জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শুধু বাংলাদেশের জন্য কাজ করার সুযোগ কম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতির দায়িত্বে থেকে নির্দিষ্ট কোনো একক দেশ কিংবা কেবল বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তহবিল আনা বা আলাদাভাবে কাজ করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বীন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বীন কাশেম তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্সি পদ অর্জনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য কোনো বিশেষ তহবিল বা প্রকল্প আনার উদ্যোগ গ্রহণ করছেন কি না।
উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংসদের উদাহরণ টেনে বলেন, “সংসদের স্পিকার যেমন কোনো একটি দলের নন বরং সংসদের সব সদস্যের স্পিকার হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিও ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সবার প্রতিনিধি। এখানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়, ফলে এককভাবে কোনো বিশেষ দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কম।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ তখনই বিশ্বমঞ্চে গর্ব ও যোগ্যতার সাথে এই পদের মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে, যখন আমরা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সকল সদস্য রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করতে সক্ষম হব।”
জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদের জন্য নির্বাচনী প্রচারণার স্মৃতিচারণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে এই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য মনোনয়ন দিলেন, তখন আমাদের সামনে সময় ছিল খুবই সীমিত। যেখানে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রায় ১০ বছর ধরে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন, সেখানে আমরা সময় পেয়েছিলাম মাত্র ১০ সপ্তাহ। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, আপনি আমাকে কার্যত একটি ‘ইম্পসিবল মিশন’-এ পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এবং তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছে।”
|