রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: জেলা প্রশাসক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: জেলা প্রশাসক
রাজশাহীতে সারের গুদাম পরিদর্শন করছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম (ছবি: সংগৃহীত)।

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সারের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই এবং আমন ধানের উপরি প্রয়োগের জন্য জেলায় পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম।

বর্তমানে জেলার সরকারি ও বেসরকারি গুদামগুলোতে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন বা ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। এছাড়া সারের নিয়মিত সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত বরাদ্দও ইতিমধ্যে ডিলারদের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার সারের ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সংসাদিপুর এলাকার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এ সময় তিনি সারের সার্বিক মজুত, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিক্রয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান উপস্থিত ছিলেন।

সারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নন-ইউরিয়া (ডিএপি, টিএসপি, এমওপি) সারের প্রাথমিক চাহিদা কমে এলেও এখন আমন ক্ষেতে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সারের ব্যবহার বাড়বে। কৃষকদের এই চাহিদা মাথায় রেখেই পর্যাপ্ত ইউরিয়া মজুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার উত্তোলন শুরু করবেন।

কৃষকদের ভোগান্তি নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে ডিসি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। সারের জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রতিটি ডিলারকে দৈনিক উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির হিসাব উপজেলা কৃষি অফিসে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কালোবাজারি প্রতিরোধে জেলায় গঠিত ভিজিল্যান্স টিমের অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৯৩ বস্তা অবৈধ সার জব্দ এবং অনিয়মে জড়িতদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কোনো অসাধু চক্র নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি বা মজুতের অপচেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন