সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার : চিফ হুইপ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার : চিফ হুইপ
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি

 মা-বাবা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার প্রতি সন্তানদের অবহেলা ও বাড়িছাড়া করার মতো সামাজিক ব্যাধি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংস্কার, সংসদীয় কমিটি গঠন এবং আসন্ন তৃতীয় অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য জানান। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন প্রাথমিক পরিকল্পনায় সংক্ষিপ্ত হলেও প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

চিফ হুইপ জানান, সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ৬টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিলগুলো বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একই সাথে বিরোধী দলের তালিকা পাওয়ামাত্রই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো চূড়ান্তভাবে গঠন করা হবে।

সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখে বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় নতুন আইন এবং সংবিধানের যুগোপযোগী সংস্কার করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের সামান্য পরিবর্তনও সংস্কারের অংশ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক চর্চা।

চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে; যার মধ্যে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াত থেকে ৫ জন, অন্যান্য দল থেকে ১ জন করে এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নাম পাওয়ার পর তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বিরোধী দলের প্রধান কাজ। আমরা আশা করব, সংসদের বাইরে অযথা অস্থিরতা তৈরি করে পুরোনো স্বৈরাচারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি না করে বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের কথা বলবে।”

বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর মতো চলমান সংকট নিরসনে জনগণের সহযোগিতা ও সময় চেয়ে চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা মাত্র কয়েক মাসে পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয়; তাই জাতীয় উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সবাইকে ধৈর্য ধরে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন