দীঘিনালায় বিদ্যুৎ কর্মকর্তা এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ণ
দীঘিনালায় বিদ্যুৎ কর্মকর্তা এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা বিদ্যুৎ অফিস (ফাইল ছবি)।

রুপম চাকমা, দীঘিনালা: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় রিচার্জ মিটার দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, মিটার লক করে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং মিটারের রিডিং কমিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে।

উপজেলার করল্যাছড়ি এলাকার একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত নানা জটিলতার ভয় দেখিয়ে এবং রিচার্জ মিটার দেওয়ার নামে তাঁদের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এরশাদ আলী।

করল্যাছড়ি এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. মিলন অভিযোগ করে জানান, কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তাঁর বাসায় গিয়ে মিটারে ত্রুটি রয়েছে বলে জানান এবং সমাধানের কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেন। এর প্রায় এক মাস পর আবারও বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন গিয়ে তাঁর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে আরও ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অপর ভুক্তভোগী মনির হোসেন বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পেতাম। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন আমাকে রিচার্জ মিটার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বিষয়টি ‘সমঝোতা’ করার কথা বলেন। এর জন্য প্রথমে আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে মিটারের রিডিং কমিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, করল্যাছড়ি এলাকার আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে একইভাবে বিভিন্ন অজুহাতে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দীঘিনালা বিদ্যুৎ অফিসে গেলে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলী সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কোনো মন্তব্য না করেই তড়িঘড়ি করে অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে দীঘিনালা বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী গীতি বসু চাকমা জানান, “গ্রাহকদের হয়রানি বা অর্থ আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও লিখিত প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মন্তব্য করুন