কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ওঝার ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট, সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ওঝার ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট, সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
অ্যান্টিভেনাম থাকতেও কুসংস্কারের বলি: কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষধর সাপের কামড়ে জান্নাতুল ফেরদৌস সাগরিকা (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করায় সঠিক চিকিৎসার অভাবে তাঁর প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নিহত সাগরিকা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটারপাড়া গ্রামের নূরে আলম জিকুর স্ত্রী এবং জামাল উদ্দিনের মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিজ বসতবাড়ির বাইরে টয়লেটে যাওয়ার সময় সাগরিকাকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রমন্ত্র চালিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার নামে সময় নষ্ট করা হয়।

পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে এবং তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তবে জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, "আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনাম মজুত রয়েছে। কুসংস্কার ও অজ্ঞতার বশে ওঝা বা কবিরাজের ওপর নির্ভর না করে রোগীকে সরাসরি দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে নিয়ে এলে হয়তো তাঁর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো।"

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন