হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানসিক ভারসাম্যহীন দুলালী মারা গেছেন
রাজধানী প্রতিবেদক : রাজধানীর বুকে সুচিকিৎসার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাজপথে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই অসহায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারী দুলালী (৪০) আর নেই। চিকিৎসকদের সমস্ত মানবিক ও আপ্রাণ চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ রবিবার সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে দুলালীর মৃত্যুর এই খবর জনসমক্ষে আসে। পরবর্তীতে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে অনলাইন সংস্করণটি সর্বশেষ তথ্যের সাথে আপডেট করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুলালী দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকেই তিনি তীব্র রক্তস্বল্পতা (গুরুতর অ্যানিমিয়া), শরীরে প্রয়োজনীয় লবণ-খনিজের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা (ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স) এবং সেপটিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শনিবার (৩০ মে) গভীর রাতে হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) স্থানান্তর করেন। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই আজ সকালের দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
দুলালীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধারকারী ও তাঁর চিকিৎসার জন্য অবিরাম লড়াই করা যুবক মুছা করিম রিপন সাংবাদিকদের বলেন, গত ২২ মে সকালে নিজের বাসার পাশের একটি গলিতে অত্যন্ত অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় দুলালীকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। মানবিক কারণে এগিয়ে গিয়ে পরিচয় জিজ্ঞেস করলেও দুলালী নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই বলতে পারছিলেন না। তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে দেখে রিপন প্রথমে তাঁকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে একে একে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল, এক্সিম ব্যাংক হাসপাতাল, নিরাময় ক্লিনিক এবং সুপারম্যাক্স হাসপাতালসহ রাজধানীর অন্তত ডজনখানেক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গেলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে দুলালীর জরুরি চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের এই অনীহা দেখে নিরুপায় হয়ে একপর্যায়ে ‘দুলালীকে বাঁচাতে চাই’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে একাই অবস্থান নেন মুছা করিম রিপন।
একজন অজ্ঞাত মানসিক রোগীর জন্য এক যুবকের এই অনন্য মানবিক লড়াইয়ের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকসহ নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসলে দ্রুত বিশেষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুলালীকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে আইনি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার নিজেই দুলালীর চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান সম্পূর্ণ সরকারি খরচে করা হচ্ছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে শরীরের ভেতরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জটিলতা ও ইনফেকশন মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ও চিকিৎসকদের সব আন্তরিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ সকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন দুলালী। তাঁর এই করুণ মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জান্নাত সকালাবেলা
|