দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি

প্রকাশ: রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি

মোঃ তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষায় এবার বিশেষ কৌশলের অংশ হিসেবে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং দেশের নানা সীমান্ত এলাকায় কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিস্তীর্ণ ও অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেখানে তাদের শক্তি ও টহল বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবেশী দেশে অবস্থানরত কথিত অবৈধ নাগরিকদের পুশইনের জোর প্রস্তুতির খবর ছড়ানোর পর সীমান্ত এলাকায় জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্থানীয় সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪২ বিজিবি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ৪২ বিজিবি ইতোমধ্যে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং দৃশ্যমান পেট্রোলিং উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও পাহাড়ি নদীপথগুলো চিহ্নিত করে সেখানে দিবা-রাত্রিকালীন বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অরক্ষিত ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্ট। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অংশ হিসেবে নাইট ভিশন গগলস, ড্রোন এবং অত্যাধুনিক বাইনোকুলারের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী ও সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বিজিবির গোয়েন্দা শাখা।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে শুধুমাত্র বাহিনীর তৎপরতাই নয়, স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে বিজিবি। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং সরাসরি গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রাত্রিকালীন বিজিবি টহল দল বাঁশি ও টর্চ লাইটের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণকে সতর্ক রাখছে। স্থানীয়দের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে ছোট ছোট সতর্কতামূলক ‘প্রতিরোধ দল’ গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যক্রম দেখা মাত্রই দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “অবৈধ পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন এলাকার জনসচেতনতামূলক সভায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছি। কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডারগণও নিয়মিতভাবে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের জওয়ানরা সীমান্তে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে।”

তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুশইন কিংবা যেকোনো সন্দেহজনক মুভমেন্টের তথ্য পাওয়া মাত্রই যেন তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করা হয়। বিজিবি সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে সীমান্ত পাহারায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন