পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: জরিমানার ৭ লাখ টাকা পাবে শিশুর পরিবার
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তাঁর রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা নিহত শিশুর আইনি উত্তরাধিকারী অর্থাৎ তাঁর পরিবার পাবে। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
রায়ের বিবরণী থেকে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মূল আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯(২)/৩০ ধারায় স্বামীকে এই জঘন্য অপরাধে সরাসরি সহযোগিতার দায়ে স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ এই সাজার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা হিসেবে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন, আসামিরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে ওই টাকা নিহত শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীগণ পাবেন। আর আসামিরা যদি এই টাকা স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করে, তবে ওই অর্থ আদায়ের জন্য ট্রাইব্যুনাল আসামিদের স্থায়ী ঠিকানা সংশ্লিষ্ট জেলা কালেক্টরদের (ডিসি) প্রয়োজনীয় আইনি নির্দেশ দিয়েছেন। আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় নিয়মে নিলামে বিক্রি করে এই ৭ লাখ টাকা আদায় করতে হবে এবং আদায়কৃত অর্থ শিশুর প্রকৃত আইনগত উত্তরাধিকারদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে।
এই মামলার রাষ্ট্রনিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীরা হলো তার বাবা, মা ও বোন, অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত সেই পরিবারটিই আইনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদালতের এই জরিমানার টাকা পাবে। ট্রাইব্যুনাল তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এটি মূলত এক ধরণের আর্থিক ক্ষতিপূরণ, যা জরিমানার মাধ্যমে আসামিদের সম্পত্তি থেকে আদায় করে শিশুর পরিবারকে প্রদান করা হবে। এদিকে আদালতের এই রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর বাবা জানান, আইনি লড়াইয়ে এই রায়ে তাঁরা সান্ত্বনা পেয়েছেন এবং রায়টি দ্রুত কার্যকর হলে তারা শতভাগ সন্তুষ্ট হবেন।
|