শহরের বাইরে যাচ্ছে মহাখালী-সায়েদাবাদ-গাবতলী-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
শহরের বাইরে যাচ্ছে মহাখালী-সায়েদাবাদ-গাবতলী-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল: প্রতিমন্ত্রী
বাস টার্মিনাল স্থানান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল দ্রুত বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং বিদ্যমান ডিপোগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। একই সঙ্গে গাবতলী টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মহাসড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের বাস টার্মিনালগুলো আধুনিকায়নের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনে গঠিত জাতীয় কমিটি’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, “রাজধানীর অসহনীয় যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে দূরপাল্লার বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং এলোমেলো পার্কিং। এই চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থান ও বাস ডিপো ব্যবহারের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ঢাকার প্রবেশমুখ কাঁচপুর ও পূর্বাচল এলাকার অবকাঠামোগুলোকে কীভাবে দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করা যায়, তা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। টার্মিনাল সংলগ্ন ফাঁকা ও অব্যবহৃত নতুন জায়গাগুলো দ্রুত অধিগ্রহণ ও প্রস্তুত করে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূলত ঢাকার মূল প্রবেশপথগুলোতে আন্তজেলা গণপরিবহনের জটলা কমিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

ঢাকার আশপাশের মহাসড়কের বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ সংলগ্ন বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা যানজট সৃষ্টির অন্যতম মূল কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করে সড়কগুলোকে পুরোপুরি যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

হাবিবুর রশিদ আরও উল্লেখ করেন, “শুধু রাজধানীর ভেতরের পথঘাট ঠিক করলেই সামগ্রিক সমাধান আসবে না; বরং বৃহত্তর ঢাকার সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করে গণপরিবহনের শতভাগ সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা হবে।”

সভায় সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন টার্মিনালগুলোর আধুনিকায়ন, সুনির্দিষ্ট বাস কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের মানসম্মত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ করে আরামদায়ক এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট ও আধুনিক টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সড়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন