মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মীদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান বাংলাদেশ হাইকমিশনের
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাজের ভিসাহীন ও নথিপত্রহীন বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো প্রকার গ্রেপ্তার ও আইনি জটিলতা এড়িয়ে সরকারি বিশেষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।
দেশজুড়ে অনিয়মিত বা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের চলমান সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেই এই সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা জারি করল হাইকমিশন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়।
ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা হয়তো অনেকেই অবগত আছেন, অনিয়মিত বা প্রয়োজনীয় নথিপত্রহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকার ও মাইগ্রেশন বিভাগ একটি বিশেষ সুযোগ চালু রেখেছে, যার নাম ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’ তথা ‘বিআরএম ২.০’ (BRM 2.0)। এই কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে থাকা অনিবন্ধিত বিদেশি নাগরিক ও শ্রমিকেরা সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে এবং নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আইনি সুযোগ পাচ্ছেন।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ফিরতে চান, তাঁদের জন্য সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণের পরামর্শ দেন প্রেস সচিব। তিনি জানান:
প্রথমত, আবেদনকারীর কাছে অবশ্যই বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তারা বিকল্প হিসেবে দ্রুত কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট (টিপি) সংগ্রহ করবেন।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে ফেরার জন্য একটি নিশ্চিত ও বৈধ বিমান টিকিট কাটতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিমানযাত্রার তারিখ হতে হবে ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণের তারিখের কমপক্ষে ৫ দিন পর এবং সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে।
তৃতীয়ত, আবেদনকারীকে সশরীরে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রসঙ্গে তিনি জানান, সঙ্গে মূল পাসপোর্ট অথবা দূতাবাস প্রদত্ত ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার স্পষ্ট ফটোকপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি (যদি থাকে), প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশে ফেরার নিশ্চিত বিমান টিকিট প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক নির্ধারিত ফি ও ধার্যকৃত জরিমানা কেবল ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে সরাসরি পরিশোধ করতে হবে।
দালাল চক্রের তৎপরতা সম্পর্কে প্রবাসীদের সতর্ক করে মো. তরিকুল ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেন, “মনে রাখবেন, বিআরএম ২.০-এর আবেদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে কোনো দালাল, এজেন্ট বা তৃতীয় পক্ষকে বাড়তি কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা বা দ্রুত ছাড়পত্র পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করলে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং মালয়েশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, সময়সীমার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আইনি সুরক্ষা বজায় রেখে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক কর্মীরা যেন অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেন।