ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ডা. শিহান মাহমুদ রেদ্ওয়ানুল হক কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই পা ভারী লাগে বা ফুলে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরে জলীয় অংশ জমে ফুলে যাওয়াকে বলা হয় ইডেমা। মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের নিচের অংশে অর্থাৎ পায়ে পানি জমার প্রবণতা বেশি থাকে। পা ফোলা সাধারণ ক্লান্তি থেকে শুরু করে গুরুতর রোগের সংকেতও হতে পারে।
১. দুই পা ফুলে গেলে:
ওষুধের প্রভাব: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (যেমন এমলডিপিন), পেইন কিলার (অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন), স্টেরয়েড বা জন্মনিরোধক পিলের কারণে পা ফুলতে পারে।
গর্ভাবস্থা: অন্তঃসত্ত্বা নারীদের শেষ তিন মাসে পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক।
শিরাগত সমস্যা: পায়ের শিরার ভালভ দুর্বল হয়ে রক্ত জমে গেলে পা ফোলে, যা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে বেশি দেখা যায়।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতা: হার্ট, কিডনি বা লিভার ফেইলিউর, থাইরয়েড হরমোনের অভাব ও অপুষ্টির মতো গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে এই ইডেমা। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা জন্ডিসও থাকতে পারে।
২. এক পা ফুলে গেলে:
ডিভিটি (DVT): শিরার ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে ‘ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস’ বলে। হঠাৎ ব্যথার সঙ্গে এক পা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া এর মূল লক্ষণ। এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
সংক্রমণ ও অন্যান্য: লসিকা নালিতে ব্লক (লিম্ফ ইডেমা), জীবাণুর সংক্রমণ (সেলুলাইটিস) বা হাড়ক্ষয়জনিত ব্যথার কারণেও এক পা ফুলতে পারে।
পা ফোলা সাময়িকভাবে কমাতে কিছু নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে:
লবণ নিয়ন্ত্রণ: খাবারে বাড়তি লবণ এবং লবণ-জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
পা উঁচু রাখা: ঘুমের সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা হৃদপিণ্ডের স্তর থেকে একটু উঁচুতে রাখুন।
ব্যায়াম: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও পায়ের ব্যায়াম রক্ত চলাচল সচল রাখে।
চিকিৎসকের পরামর্শ: হঠাৎ পা ফুলে গেলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত সঠিক রোগ নির্ণয় করা জরুরি।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ