ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষার নামে প্রতিবছর যে শত শত কোটি টাকার মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, তা এখন কৃষকের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছে। অকালবন্যা থেকে ফসল বাঁচানোর কথা থাকলেও পরিকল্পনাহীন বাঁধের কারণে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা, যা উল্টো ধান ডুবিয়ে দিচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে আসা এই চিত্র হাওরের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এক অশনিসংকেত।
সমস্যার মূলে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: একসময় কৃষকেরা প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে সাময়িক বাঁধ দিলেও এখন তা ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে (পিআইসি) প্রকৃত কৃষকের চেয়ে সুবিধাভোগী মহলের দাপট বেশি। পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে যত্রতত্র বাঁধ দেওয়ায় হাওর এখন বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে।
স্থায়ী সমাধানের বদলে ‘বার্ষিক বাণিজ্য’: কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি স্লুইসগেট বা জলকপাট নির্মাণ করা। কিন্তু মাটির বাঁধ দিলে প্রতিবছর নতুন বরাদ্দের সুযোগ থাকে বলে প্রভাবশালী মহল স্থায়ী কাঠামো নির্মাণে আগ্রহী হয় না। এমনকি ফসল রক্ষার নামে অপ্রয়োজনীয় গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করে নদী-নালার মুখ ভরাট করে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
স্থায়ী কাঠামো: প্রতিবছর ১৪৫ কোটি টাকা মাটির বাঁধে খরচ না করে পরিবেশবান্ধব স্থায়ী স্লুইসগেট ও জলকপাট নির্মাণ করতে হবে।
নদী খনন: নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে এনে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোই একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।
তদারকি: পিআইসি গঠন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধে কঠোর হওয়া।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা: কেবল ধান নয়, হাওরের মাছ ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে কারিগরি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
মাটির বাঁধ নির্মাণের এই ‘বার্ষিক বাণিজ্য’ বন্ধ না হলে অদূর ভবিষ্যতে হাওর তার প্রাণ হারাবে। কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে এই প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ