ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন আকাঙ্ক্ষা আছে, তেমনি আছে এক ধরনের দ্বিচারিতা। বিশেষ করে রাজনীতির মাঠে নারীর অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে সংরক্ষিত নারী আসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক পরিবেশ ও উত্তরাধিকার: বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বে নারী থাকলেও সাধারণ নারীদের জন্য মাঠটি এখনো অনুকূল নয়। শীর্ষ নেতৃত্বের এই অবস্থান মূলত পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শূন্যতা পূরণের ফল, যা সাধারণ নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী থাকলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পুরোপুরি ইতিবাচক হয়নি।
সংরক্ষিত আসনের অগণতান্ত্রিক কাঠামো: আমাদের সংবিধানে সংরক্ষিত নারী আসনের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তা মূলত ভোটারদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াই নির্ধারিত হয়। ১৯৭০ সালের ইয়াহইয়া খানের আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই ১৯৭২-এর সংবিধানে ১৫টি সংরক্ষিত আসন রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ৫০টিতে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পদ্ধতিটি এখনো অগণতান্ত্রিক। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের আসন অনুযায়ী এই নারীদের মনোনীত করে।
স্থানীয় বনাম জাতীয় পর্যায়ের বৈষম্য: আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (ইউনিয়ন, উপজেলা বা সিটি কর্পোরেশন) সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট হয়। অথচ জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে নারীদের দলীয় বদান্যতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ের নারীরা যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন, তবে জাতীয় পর্যায়ের নারীদের কেন 'নবিশ' বা 'অবলা' মনে করে মনোনয়ন প্রথার মধ্যে রাখা হয়েছে?
অবদান ও বাস্তবতা: ভোটারদের মুখোমুখি না হয়ে সরাসরি নির্বাচন এড়িয়ে যারা সংসদে যান, তারা মূলত সাধারণ নির্বাচনে জিতে আসা (অধিকাংশ পুরুষ) সদস্যদেরই প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে সংরক্ষিত আসনের নারীরা জনপ্রতিনিধি না হয়ে সংসদের একটি 'এক্সটেনশন' হিসেবে রয়ে যান। তাদের অনেকেই ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, এমনকি সংসদীয় কার্যক্রমেও তাদের ভূমিকা প্রশ্নসাপেক্ষ।
উপসংহার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার জন্য হাজারো নারীর আহাজারি ও লবিং প্রমাণ করে, তারা জনগণের সেবার চেয়ে একটি 'এমপির টিকিট' পাওয়াকেই বড় সাফল্য মনে করছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা না হবে, ততক্ষণ এই নারী সদস্যরা রাজনীতির মাঠে প্রভাবশালী হওয়ার পরিবর্তে 'অবলা' এবং পুরুষনির্ভর হয়েই থেকে যাবেন।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ