লাইফস্টাইল ডিস-অর্ডার: মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারে যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ

লাইফস্টাইল ডিস-অর্ডার: মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারে যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ

অনলাইন ডেস্ক: আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার স্ক্রিন এখন চোখের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে নীরবে বাড়ছে 'ড্রাই আই সিন্ড্রোম' বা চোখের শুষ্কতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় কেরাটোকনজাংটিভাইটিস সিক্কা। এটি বর্তমানে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে 'লাইফস্টাইল ডিস-অর্ডারে' পরিণত হয়েছে।


ড্রাই আই সিন্ড্রোম কী?

চোখের মণি সুরক্ষিত রাখতে তেল, পানি ও মিউকাস—এই তিন স্তরের একটি প্রাকৃতিক অশ্রু পর্দা কাজ করে। যখন চোখ পর্যাপ্ত অশ্রু তৈরি করতে পারে না অথবা এই তিন স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, তখনই চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

মোবাইলের স্ক্রিন যেভাবে ক্ষতি করে

চিকিৎসকদের মতে, মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মিনিটে ১৫-২০ বার চোখের পলক ফেলে। কিন্তু মোবাইল বা কম্পিউটারে নিবিষ্ট থাকলে পলক ফেলার হার অনেক কমে যায়। এতে চোখের উপরিভাগের জলীয় অংশ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং অশ্রুর স্তরটি ভেঙে পড়ে।

যেসব লক্ষণ দেখে সাবধান হবেন

ড্রাই আই সিন্ড্রোমের লক্ষণগুলো শুরুতে সাধারণ ক্লান্তি মনে হলেও ধীরে ধীরে তা জটিল হয়ে ওঠে:

  • চোখে বালুকণার মতো কিছু আটকে থাকার অনুভূতি।

  • জ্বালাপোড়া, খোঁচা লাগার মতো ব্যথা বা চোখ ভারী লাগা।

  • দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখ খোলা রাখতে কষ্ট হওয়া।

  • দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং আলোতে তাকাতে অস্বস্তি।

  • আশ্চর্যের বিষয় হলো, অতিরিক্ত পানি পড়াও অনেক সময় শুষ্ক চোখের লক্ষণ হতে পারে।


অন্যান্য ঝুঁকির কারণ

অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ছাড়াও আরও কিছু কারণে এই ঝুঁকি বাড়ে:

  • পরিবেশ: এসি রুমে বেশিক্ষণ থাকা, শুষ্ক আবহাওয়া, ধোঁয়া বা দূষণ।

  • শারীরিক অবস্থা: বয়স বৃদ্ধি (বিশেষ করে ৫০ ঊর্ধ্ব নারী), ডায়াবেটিস ও অটোইমিউন রোগ।

  • ওষুধ: অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা কিছু হরমোনাল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

  • জীবনযাপন: কম ঘুম, মানসিক চাপ এবং ভিটামিন ও ওমেগা-৩ এর ঘাটতি।

প্রতিকার ও সমাধান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রাই আই পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হলেও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব:

  1. পলক ফেলার অভ্যাস: স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সচেতনভাবে ঘন ঘন পলক ফেলুন।

  2. ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন।

  3. পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি: চোখকে বিশ্রাম দিতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখা জরুরি।

  4. চিকিৎসকের পরামর্শ: অস্বস্তি বাড়লে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।

উপসর্গ অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে চোখের কর্নিয়ার স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধই সুস্থ চোখের চাবিকাঠি।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন