লোকগানের সুরে ছায়ানটে ওয়াহিদুল হককে স্মরণ

লোকগানের সুরে ছায়ানটে ওয়াহিদুল হককে স্মরণ

সমকাল প্রতিবেদক: ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশিষ্ট সংস্কৃতি চিন্তক ওয়াহিদুল হকের স্মরণে নিয়মিত আয়োজন ‘দেশঘরের গান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ছায়ানট মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল উপজীব্য ছিল বাংলাদেশের লোকঐতিহ্যের দুই সমৃদ্ধ ধারা—পালাগান ও আঞ্চলিক গান।

স্মরণ সভার সূচনা করেন ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। তিনি ওয়াহিদুল হকের জীবনদর্শন ও সংস্কৃতিবোধের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, “পাশ্চাত্যের রূপকথার সেই জ্ঞানী মানুষদের মতো ওয়াহিদুল হক ছিলেন আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরের দিশারী। স্থাপত্য থেকে পরমাণু বিজ্ঞান—সব শাখায় তাঁর বিচরণ থাকলেও সঙ্গীতই ছিল তাঁর প্রধান অবলম্বন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন ‘গানের ফেরিওয়ালা’।” ডা. সারওয়ার আলী আরও উল্লেখ করেন যে, ওয়াহিদুল হক সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ এবং শুদ্ধ দেশজ সংস্কৃতির স্বপ্ন দেখতেন।

স্মরণ কথনের পর শুরু হয় লোকজ সুরের মূর্ছনা:

  • আঞ্চলিক গান: সুনামগঞ্জের শিল্পী অনামিকা কর গেয়ে শোনান হাছন রাজা, শাহ আব্দুল করিম ও রাধারমণ দত্তের গান। চাঁদপুরের শিল্পী মুক্তা সরকার পরিবেশন করেন রমেশ শীল, দূরবীন শাহ ও গুষ্ঠ গোপালের গান।

  • বাউল গান: নেত্রকোনার বাউল সিরাজউদ্দিন পাঠান তাঁর কণ্ঠে তুলে ধরেন সহজিয়া জীবন দর্শনের গান।

  • পালাগান: অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নেত্রকোনার দেলোয়ার হোসেন দিলু বয়াতি ও তাঁর দল কারবালার কাহিনী অবলম্বনে একটি আবেগঘন পালাগান পরিবেশন করেন।

শুদ্ধ লোকজ সুরের এই আয়োজনে উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, মাটি ও মানুষের এই গানগুলোই ওয়াহিদুল হকের আজন্ম লালিত অসাম্প্রদায়িক ও সৌহার্দ্যময় সমাজের স্বপ্নকে মনে করিয়ে দেয়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন