তুরস্ক-সিরিয়া সম্পর্ক বিশ্ব স্থিতিশীলতার ভিত্তিপ্রস্তর: আহমেদ আল-শারা

দীর্ঘ সংঘাত শেষে আঙ্কারার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বে আগ্রহী দামেস্ক; ইদলিবে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা

তুরস্ক-সিরিয়া সম্পর্ক বিশ্ব স্থিতিশীলতার ভিত্তিপ্রস্তর: আহমেদ আল-শারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যকার শক্তিশালী অংশীদারিত্ব কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করতে পারে। বছরের পর বছর চলা সংঘাত কাটিয়ে সিরিয়া এখন বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আঙ্কারার সঙ্গে সহযোগিতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের (ADF) এক প্যানেলে ভাষণ দেওয়ার পর সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে (AA) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্পর্ক পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ: আহমেদ আল-শারা বলেন, "সিরিয়া ও তুরস্কের সম্পর্ক এমন এক ভিত্তি যার ওপর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব।" তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী শাসনের অধীনে সিরিয়া বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিবর্তনের ফলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের নতুন দুয়ার খুলেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় তিনি তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি করিডোর ও 'চার সাগর' প্রকল্প: সিরিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে একটি নিরাপদ ট্রানজিট করিডোর হিসেবে দেশটিকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আল-শারা। তিনি বলেন, ইরান সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি পথের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এক্ষেত্রে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জর্ডান ও সিরিয়া হয়ে তুরস্ক পর্যন্ত একটি নিরাপদ বাণিজ্যিক রুট তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া কাস্পিয়ান সাগর, ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ফোর সিজ’ বা ‘চার সাগর’ প্রকল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন: তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে উত্তর-পশ্চিমের ইদলিবে একটি ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ (Free Trade Zone) প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে বলে জানান আল-শারা। এই অঞ্চলটি ইদলিব, লাতাকিয়া, আলেপ্পো এবং দামেস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তুর্কি কোম্পানিগুলো বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং বন্দর বিনিয়োগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

অভ্যন্তরীণ সংহতি ও মার্কিন বাহিনীর প্রস্থান: অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার বিষয়ে আল-শারা জানান, কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওয়াইপিজি (YPG)-এর সদস্যদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে। গত ৩০ জানুয়ারি সিরীয় সরকার ও ওয়াইপিজি-র মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আইএস-বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত সব সামরিক ঘাঁটি এখন সিরীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এই হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সিরিয়া ও মার্কিন সরকারের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিশেষে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল-শারা বলেন, "সিরিয়া এখন আর সংকটের দেশ নয়। এটি এখন পুনর্গঠন, স্থিতিশীলতা এবং এক নতুন ভবিষ্যতের কেন্দ্র। এটি বিশ্ববাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।"

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন