ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে জাতিগত সংঘাতের আগুন আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় রকেট হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুরের মোইরাং এলাকার গেলমোল গ্রামে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীর একটি দল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর (সিএপিএফ) একটি ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। পুলিশ জানায়, উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তারা বাহিনীর একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং সংরক্ষিত এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তিন বিক্ষোভকারী নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন।
এর আগে এক রকেট হামলায় দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হলে পুরো রাজ্যে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার শত শত নারী ও শিশু নিহত শিশুদের ছবি হাতে নিয়ে রাজপথে মিছিল বের করেন। তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মণিপুর পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে এবং সরকারি সম্পত্তিতে আঘাত করলে বাধ্য হয়েই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরাজমান উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। মূলত অর্থনৈতিক সুবিধা ও সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে বিরোধের জেরে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক রকেট হামলার জন্য মেইতেই সম্প্রদায় কুকি বিদ্রোহীদের দায়ী করলেও কুকি গোষ্ঠীগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও অবিশ্বাসের ফলে ভারতের এই পার্বত্য রাজ্যে শান্তি ফেরানো এখন প্রশাসনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ