দলে মুনাফেকদের পুনর্বাসন করলে ৫ আগস্টের চেয়ে বড় বিপ্লব হবে: ভিপি সোহেল

দলে মুনাফেকদের পুনর্বাসন করলে ৫ আগস্টের চেয়ে বড় বিপ্লব হবে: ভিপি সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) ঘাপটি মেরে থাকা অনুপ্রবেশকারী ও ‘মুনাফেক’দের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল। তিনি সতর্ক করেছেন, ক্ষমতার লোভে মীরজাফর ও স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসন করা হলে ছাত্র-জনতা জুলাই-আগস্টের চেয়েও বড় বিপ্লব ঘটিয়ে ছাড়বে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল’ আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, "একাত্তরে আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম একটি বৈষম্যহীন দেশের জন্য। দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। কোনো অবস্থাতেই স্বৈরাচারের দোসর বা মীরজাফরদের সঙ্গে আপস করা হবে না।" প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ৫ আগস্টের বিজয়কে নস্যাৎ করতে একটি কুচক্রী মহল দলের ভেতরে অনৈক্য ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভিপি সোহেল দলে অনুপ্রবেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, "আমাদের দলেও ইদানীং অনেকে উঁকিঝুঁকি মারছে। আমার এক ইউনিয়নের সেক্রেটারি, অথচ তার আপন ভাই ওই ইউনিয়নের জামায়াতের আমির! এটা আমরা জানতেই পারলাম না।" তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে ২ থেকে আড়াই হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। সেই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা যদি ক্ষমতার কারণে মুনাফেকি করি, তবে একদিন জাতির কাছে জবাব দিতে হবে। অতীতে যারা দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছে, তাদের চিরতরে বর্জন করে অবিলম্বে একটি অনুপ্রবেশ বিরোধী নীতিমালা বা আইন প্রণয়ন করা জরুরি।

​সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সভার সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বেপারী শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভাটি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

​এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন