ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজেস্ব প্রতিবেদক: দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও কর্ণফুলী নদী ঘিরে জমে উঠেছে চোরাই তেলের রমরমা বাণিজ্য। প্রতিদিন ৫০ হাজার লিটারের বেশি তেল চোরাই পথে বেচাকেনা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির ডিপো এবং চট্টগ্রাম বন্দরে আসা দেশি-বিদেশি জাহাজ থেকে এই অবৈধ বাণিজ্য করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ‘তেল শুক্কুর’ নামের এক চিহ্নিত চোরাকারবারির নেতৃত্বে চলা এই চক্রকে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ছত্রছায় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারালেও, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
জানা যায়, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ সরকারিভাবে বিপিসি করলেও চোরচক্র দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধারে রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন কোম্পানির ডিপো এবং জাহাজ থেকে কৌশলে তেল সরিয়ে নিচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আসা অনেক জাহাজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল স্থানীয় চোরচক্রের কাছে কম দামে বিক্রি করে দেয়। শুল্ক না দেওয়ায় এই তেল অনেক কম দামে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়। এই চক্রের মূল হোতা শুক্কুর বাহিনীর প্রধান ‘তেল শুক্কুর’ ওরফে শুক্কুর। তার ১৭ জন সক্রিয় সদস্যের এই বাহিনীতে রফিক, নাছির, আলী, বেলালসহ আরও অনেকে রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের নামে তেল চোরাচালান ও মারধরের মামলা আছে।
স্থানীয়রা জানান, দুই দশক আগে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা শুক্কুর এখন শতকোটি টাকার মালিক। কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে জুলধা ইউনিয়নে তার বিশাল বাড়ি রয়েছে। পতেঙ্গা গুপ্তখাল ডিপোসহ বঙ্গোপসাগরের চোরাই তেলের একক নিয়ন্ত্রক এই শুক্কুর রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যের কারণে সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। বর্তমানেও ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় তিনি এই সাম্রাজ্য ধরে রেখেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন কর্ণফুলীতে প্রায় ৫০ হাজার লিটার চোরাই তেল কেনাবেচা হয়। চোরচক্র জাহাজ থেকে প্রতি লিটার তেল ৫০-৫৫ টাকায় কিনে পাইকারদের কাছে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার পর চট্টগ্রামে তেলের চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জাহাজ থেকে কেনা এই তেল কর্ণফুলীর মেরিন একাডেমি ঘাট, কালুমাঝির ঘাট, সদরঘাট ও ফিশারিঘাটসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্টে খালাস হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সদরঘাট নৌ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, গত ৫-৬ মাসে তেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে ২-৩টি মামলা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ