ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর) : রংপুরের পীরগাছায় গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়া এবং দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধকোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক নারী কবিরাজ ও তাঁর স্বামীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের সোনারায় গ্রাম থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বদেবু গ্রামের বাসিন্দা শেফালী বেগম (৩৫) ও তাঁর স্বামী আবু তাহের (৪০)। শেফালী বেগম এলাকায় নিজেকে কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিতেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে দিগটারী গ্রামের বেলাল হোসেনের স্ত্রী তাঁর ছেলের বউয়ের চিকিৎসার জন্য শেফালী বেগমের কাছে যান। সেই সুযোগে শেফালী তাঁকে বিশ্বাস করান যে, বেলাল হোসেনের বাড়িতে 'সাত রাজার ধন' বা বিপুল গুপ্তধন পুঁতে রাখা আছে। সেই গুপ্তধন উদ্ধারের জন্য কথিত 'সাধনা' ও 'নিয়ম পালনের' খরচ হিসেবে ধাপে ধাপে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শেফালী। জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করেছিলেন ভুক্তভোগীরা।
দীর্ঘদিন পার হলেও গুপ্তধন না পাওয়ায় এবং পাওনাদারদের চাপে দিশেহারা হয়ে বেলাল হোসেনের স্ত্রী টাকা ফেরত চাইলে শেফালী যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে শেফালী ও তাঁর স্বামী সোনারায় গ্রামে মেয়ের বাড়িতে ঈদের দাওয়াত খেতে এলে স্থানীয়রা তাঁদের চিনে ফেলে এবং আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।
প্রতারক দম্পতি আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও দুই ভুক্তভোগী পরিষদে হাজির হন। আনোয়ারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের হার্টের ছিদ্র নিরাময়ের গ্যারান্টি দিয়ে মানুষের সাহায্য-সহযোগিতার ২ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শেফালী। এছাড়া কাশেম মন্ডল নামে অন্য এক ব্যক্তি জানান, তাঁকে ও গুপ্তধনের লোভ দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শেফালী ও আবু তাহের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাঁরা কেবল মেয়ের বাসায় দাওয়াত খেতে এসেছিলেন। তবে শেফালী স্বীকার করেন যে, তিনি সামান্য ঝাড়-ফুঁকের কাজ করেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অভিযুক্ত দম্পতি তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ ছিলেন এবং সেখানে শত শত উত্তেজিত জনতা ভিড় করছে। খবর পেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ