শ্রীপুরে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কচি কাঁঠাল

শ্রীপুরে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কচি কাঁঠাল

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুরে ঋতুরাজ বসন্তের বিদায়লগ্নে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে গ্রীষ্মের রসালো ফল কাঁঠাল। গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত এখন কেবলই কাঁঠালের মেলা। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বাজারে মিলবে পরিপক্ক কাঁঠাল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় বাগান মালিক ও চাষিরা।

গাজীপুরের শ্রীপুরকে বলা হয় কাঁঠালের রাজধানী। এখানকার কাঁঠাল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। সরজমিনে উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টিরও বেশি ফল ধরেছে। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে পুরোদমে কাঁঠাল পাকতে শুরু করবে, তবে কিছু আগাম জাতের কাঁঠাল এখনই পাকতে শুরু করেছে।

শ্রীপুর পৌর এলাকার রমিজ উদ্দিন জানান, তাঁর ২০টি গাছে এবার প্রচুর কাঁঠাল এসেছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রির আশা করছেন। অন্যদিকে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকার হারুনুর রশিদ জানান, তাঁর ১৬টি গাছে যে পরিমাণ ফলন হয়েছে, তাতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় হতে পারে। শ্রীপুরের অনেক পরিবার কেবল এই মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি করেই সারা বছরের খরচ জুগিয়ে থাকে।

উপজেলার উল্লেখযোগ্য কাঁঠালের বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে— জৈনার বাজার, বরমী বাজার, কাওরাইদ ও গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি। ভরা মৌসুমে এসব বাজারে পাইকার ও শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অন্য ফলের তুলনায় কাঁঠাল নিয়ে সরকারি-বেসরকারি তৎপরতা অনেক কম। শ্রীপুরে কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য কোনো কোল্ড স্টোরেজ বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নেই। ফলে ফলন বেশি হলে অনেক সময় চাষিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন। এলাকায় একটি আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুললে কৃষকরা যেমন লাভবান হতেন, তেমনি বিদেশে রপ্তানির পরিমাণও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত।

এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা; কয়েকদিন পরেই পাকা কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধে মুখরিত হবে শ্রীপুরের চারপাশ।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন