তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা
অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) প্রথমে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদে মাঠে নামে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রধান অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সিএনজিচালক সুমন একা একাই স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর ঘাতক সুমন ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যায়, যা পরে পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করে।
এদিকে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে গত বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের মরদেহ তার নিজ গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায় পৌঁছায়। পরদিন শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। একমাত্র কন্যাসন্তানের এমন নৃশংস মৃত্যুর খবরে পরিবার ও গোটা এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।