বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠক
অনলাইন প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস.এম. জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং আবুল হাসনাত উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। সূচনা পর্বে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বর্তমানে ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এতে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ১০,৬৫৩.০০ কোটি টাকা, সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ৪,০৭১.৩৯ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩,৩৮১.৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
একই সাথে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদনের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা হয়:
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ: সক্ষমতা ১২,০২২ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মেগাওয়াট।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ: সক্ষমতা ৬,৯২৭ মেগাওয়াট, যেখানে প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ মেগাওয়াট।
তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ: সক্ষমতা ৬,৪০৯ মেগাওয়াট আর প্রাতাহিক প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াট।
বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়—আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে যে সকল গ্রাহক ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ (রফটপ সোলার) ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তাঁরা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে দেওয়া তাঁদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের বিপরীতে প্রতি ইউনিটে ১০.৫০ টাকা হারে মূল্য পাবেন।
কমিটি বর্তমানে সারাদেশের রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, তা আগামী বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উপস্থাপনের জোর সুপারিশ করে। এছাড়া উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন সম্বলিত লিখিত পেপারের জবাব পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।