ইরান ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমালেন ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ণ
ইরান ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমালেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত ১১ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর চমৎকার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া ১৮,০০০ দক্ষিণ কোরীয় সেনার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়াটি কেবল মার্কিন রাজস্বের চরম অপচয়ই নয়, বরং এটি উত্তর কোরিয়ার কাছে একটি ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী বার্তা’ পাঠাবে। ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর মেয়াদের শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করেছে এবং কোনো বড় হুমকি তৈরি করেনি।

ট্রাম্প লেখেন, "মহড়াটি একদম শেষ মুহূর্তে এসে সম্পূর্ণ বাতিল করা সম্ভব নয়। তাই এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি ও মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছি।" প্রেসিডেন্ট আরও প্রকাশ করেন যে, সম্প্রতি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় যোগ দেবে কি না, জবাবে তারা সরাসরি ‘না’ বলে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সাবেক নৌ-পাইলট মার্ক কেলি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "এই যৌথ সামরিক মহড়াগুলোকে এভাবে হঠাৎ দুর্বল করে ফেলা একটি চরম দূরদৃষ্টিহীন এবং মারাত্মক ভুল পদক্ষেপ।"

অন্যদিকে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার থেকে মহড়া শুরু হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ওয়াশিংটন ও সিউলের মিত্রতার ক্ষেত্রে মূল স্তম্ভ বলে বিবেচিত এই মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার মার্কিন নির্দেশে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এসব বার্ষিক সামরিক অনুশীলনকে তাদের বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। এই ঘোষণার ঠিক কয়েক দিন আগেই উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় এবং যৌথ মহড়া অব্যাহত থাকলে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দেয়। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে কিম জং উনের সঙ্গে পুনরায় শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর বার্তা নিহিত থাকতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন