বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই সিরিজের শীর্ষ দুই মডেল ‘আইফোন ১৮ প্রো’ এবং ‘আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স’। যদিও অ্যাপলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি, তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের বরাতে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন তথ্যে ডিভাইসগুলোর সম্ভাব্য চোখধাঁধানো ফিচার, পারফরম্যান্স এবং দামের বিষয়টি এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অনুমান করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের মূল ক্যামেরা বিভাগে মেগাপিক্সেলের সংখ্যায় বড় পরিবর্তন না এলেও থাকছে ট্রিপল ৪৮ মেগাপিক্সেল লেন্সের সেটআপ। তবে এবারের সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক আপগ্রেড হতে যাচ্ছে মেকানিক্যাল ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার লেন্সের সংযোজন। এই বিশেষ লেন্সের কল্যাণে ব্যবহারকারীরা আলো নিয়ন্ত্রণে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা পাবেন। ফলস্বরূপ, অত্যন্ত কম আলোতেও প্রফেশনাল ও ঝকঝকে মানের ছবি ধারণ করা যাবে এবং পোর্ট্রেট মোডে আরও প্রাকৃতিক ও নিখুঁত ডেপথ ইফেক্ট (বোকাহ ইফেক্ট) পাওয়া সম্ভব হবে।
ফাঁস হওয়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো মডেলটিতে থাকতে পারে ৬.৩ ইঞ্চির ডিসপ্লে এবং প্রিমিয়াম আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে দেওয়া হতে পারে ৬.৯ ইঞ্চির বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে প্যানেল। এতে নতুন ‘এলটিপিও+’ (LTPO+) ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে, যা ফোনের পাওয়ার এফিশিয়েন্সি বা ব্যাটারি সাশ্রয়ের ক্ষমতা বহুগুণ উন্নত করবে। এছাড়া স্ক্রিনের ওপর থাকা ডাইনামিক আইল্যান্ডের (Dynamic Island) আকার প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হতে পারে, যা ব্যবহারকারীদের স্ক্রিন দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।
এবারের সিরিজে সবচেয়ে বড় এবং স্বস্তিদায়ক পরিবর্তন আসতে পারে ব্যাটারি বিভাগে। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে এবার ৫১০০ থেকে ৫২০০ এমএএইচ (mAh) ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে। উল্লেখ্য, এটিই হবে আইফোনের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ব্যাটারি। এর ফলে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ পাবেন এবং ভারী ব্যবহারের পরও অনায়াসে সারাদিনের ব্যাটারি লাইফ নিশ্চিত হবে।
গতি ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে অ্যাপল ব্যবহার করছে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ‘এ২০ প্রো’ (A20 Pro) চিপসেট। এই প্রসেসরটি তাইওয়ানের বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি-র (TSMC) অত্যাধুনিক ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। ফাঁস হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই চিপের কারণে আগের আইফোনের তুলনায় নতুন ডিভাইসের পারফরম্যান্স প্রায় ১৫ শতাংশ দ্রুত হবে এবং পাওয়ার এফিশিয়েন্সি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এতে আরও উন্নত অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স (AI) সাপোর্ট এবং বিদ্যুৎগতির এআই প্রসেসিং ক্ষমতা মিলবে।
নতুন আইফোনের দাম কেমন হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বৈচিত্র্যময় ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা বিবেচনা করে অ্যাপল এবার আক্রমণাত্মক বা কিছুটা কম প্রাইসিং স্ট্র্যাটেজি নিতে পারে; আবার অনেকের মতে, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও দাম আগের বছরের মতোই স্থিতিশীল রাখা হবে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৮ প্রো-এর সম্ভাব্য প্রারম্ভিক মূল্য হতে পারে প্রায় ১,০৯৯ মার্কিন ডলার এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর প্রারম্ভিক দাম শুরু হতে পারে ১,১৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।
জান্নাত সকালাবেলা