নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগ গ্রামে বন্ধুদের সাথে আনন্দময় এক গেট-টুগেদারে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে পশ্চিম দেওভোগ গ্রামের মৃত মোস্তাকুর রহমানের বাড়ির পুকুরে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, সাঁতার না জানা বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়েই দুজনে একসাথে তলিয়ে যান।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— পশ্চিম দেওভোগ গ্রামের বাসিন্দা ও মুন্সীগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মৃত মোস্তাকুর রহমানের ছোট ছেলে সোপান (২৪) এবং ঢাকার বাসিন্দা মেজর মুকিতের ছেলে আজওয়াদ (২২)। তাঁরা দুজনই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সোপান ছিলেন সবার ছোট।
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে সোপানের আমন্ত্রণে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন সহপাঠী ও বন্ধু ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের ওই পৈতৃক বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দিনভর আনন্দ-উল্লাসের পর বিকেলে বন্ধুরা যখন ঘরের ভেতর ও চারতলার ছাদে আড্ডা দিচ্ছিলেন, তখন সোপান ও আজওয়াদ বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নামেন।
গোসলের একপর্যায়ে আজওয়াদ গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকলে সোপান তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। সোপান সাঁতার জানলেও আজওয়াদের আকুলতায় তিনিও পানিতে আটকে পড়েন। হঠাৎ সোপানের মরণপণ চিৎকার শুনে ছাদ ও ঘর থেকে বন্ধুরা দ্রুত নিচে নেমে আসেন এবং দুজনকে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সহযোগিতায় পুকুরে দীর্ঘক্ষণ সন্ধান চালিয়ে তাঁদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। বন্ধুদের চোখের সামনে দুই সহপাঠীর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় স্তব্ধতা ও কান্নার রোল পড়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফ আলী সরকার বলেন, “বিকেল পাঁচটার পর পানিতে ডোবা দুই তরুণকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনার পেছনে স্বাভাবিক পানিতে ডোবার বাইরে অন্য কোনো কারণ বা দুর্ঘটনা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের পরামর্শ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. কামরান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পশ্চিম দেওভোগে সোপানের বাড়িতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের একটি গেট-টুগেদার বা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ছিল। বিকেলে সোপান ও তাঁর বন্ধু আজওয়াদ পুকুরে গোসল করতে নামেন, যা বাকি বন্ধুরা ছাদ থেকে দেখছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সোপান ভালো সাঁতার জানতেন। মূলত সাঁতার না জানা ঢাকার বন্ধু আজওয়াদকে ডুবতে দেখে তাঁকে বাঁচাতে গিয়েই দুজনে পানির নিচে তলিয়ে যান এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।”
এ.আই.এল/সকালবেলা