অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিগত দুই দশক ধরে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের নেতিবাচক প্রচার ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
আজ শুক্রবার (২২ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রথম আলো সম্পাদকের ভূমিকার কঠোর নিন্দা জানান।
ফেসবুক পোস্টে গোলাম মাওলা রনি কালের কণ্ঠের একটি প্রতিবেদনের ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, “তারেক রহমানের যত বদনাম, অর্ধেক তার করিয়াছেন মতি, বাকি অর্ধেক দুনিয়ার সকল প্রাণী!” তাঁর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কালের কণ্ঠের ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিকল্পিত মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু বিগত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলই নয়, ওয়ান-ইলেভেনের আগে থেকেই তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হয়েছিল। তাঁকে তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে দূরে সরাতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে ‘সহিংস রাজনীতির প্রতিনিধি’ হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালানো হতো কতিপয় মিডিয়ায়, যার অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো।
বিশেষ করে ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে প্রথম আলো ধারাবাহিকভাবে তৎকালীন এই যুবনেতার বিরুদ্ধে একের পর এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা আইনি পরিভাষায় কঠোর ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে পরিচিত। সে সময় তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে প্রথম আলোতে অসংখ্য ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছাপানো হতো। এর পাশাপাশি বিশেষ সম্পাদকীয় আর কলাম প্রকাশ করে সম্মিলিতভাবে তাঁকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রথম আলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসংখ্য ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছিল। শুধু সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশ করেই তারা ক্ষান্ত থাকেনি, কার্টুন ও কলামের মাধ্যমে তারেক রহমানকে হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জনগণের সামনে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছিল।
সে সময় একটি টক শো অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছিলেন, “বিএনপি সরকার বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই ঘটনার কোনো তদন্ত করতে দেয়নি, বিচার তো দূরের কথা। বরং তারা এই ঘটনাকে উল্টো মুখে প্রচার চালিয়ে এসব দায় আওয়ামী লীগের ওপরে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুধু আওয়ামী লীগ না, একই সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তারা এতসব মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছিল, যা একটা অদ্ভুত রূপকথাকে ছাড়িয়ে যায়।”
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম আলোসহ কতিপয় সংবাদমাধ্যমের এত নেতিবাচক প্রচার ও চরিত্রহননের অপচেষ্টার পরও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র হ্রাস করা যায়নি। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছর (২০২৫ সালে) বীরের বেশে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের কোটি কোটি মানুষের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গোলাম মাওলা রনির এই পোস্টের মাধ্যমে গণমাধ্যমের একটি অংশের সেই সময়কার বিতর্কিত ও একপেশে সাংবাদিকতার চিত্র আবারও জনসমক্ষে উন্মোচিত হলো।
এ.আই.এল/সকালবেলা