যুবলীগের গোপন বৈঠক থেকে আটক ৩

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ণ
যুবলীগের গোপন বৈঠক থেকে আটক ৩

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের অনুসারীদের ঝটিকা মিছিলের পরদিন একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠকের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে শহরের গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্টে পুলিশ ও ছাত্র সংগঠনের যৌথ তৎপরতায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা সবাই চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা এবং যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত ও অভিযানের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও পুলিশ জানায়, এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে চাষাঢ়া এলাকায় বৈরী আবহাওয়া ও ভোরের শূন্যতার সুযোগ নিয়ে পলাতক আজমেরী ওসমানের অনুসারী যুবলীগের একদল নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় লাল কাপড়ে মুখ ঢেকে তারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

এই মিছিলের পরদিনই শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী চাষাঢ়ার একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক চলছে বলে সুনির্দিষ্ট স্ট্যাটাস দেন। এরপরই জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রেস্তোরাঁটি ঘেরাও করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলের দিকে গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্টে পুলিশের বড় একটি দল প্রবেশ করে। অভিযানের সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানার দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে অংশ নিতে আসা আরও অনেকে পেছনের দরজা দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “চাঁদপুরের একটি সংগঠনকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজনের আড়ালে মূলত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী নেতাকর্মী সেখানে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আসে। পরে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করি। জুমার নামাজের পর থেকেই আমাদের লোকজন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নজরদারি চালায়। বিকেল ৩টার দিকে গ্র্যান্ড হল রেস্তোরাঁয় তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। আমাদের কাছে তথ্য ছিল, সেখানে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী জড়ো হওয়ার কথা ছিল।”

এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নীরব রায়হান বলেন, “প্রথমে তাদের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে এই গোপন বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে ফাঁস হয়ে গেছে বুঝতে পেরে তারা শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করে গ্র্যান্ড হলে যায়। আমরা ছাত্রশিবিরের সাথে সমন্বয় করে তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে অ্যাকশনে পাঠাই।”

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোপন বৈঠকের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালাই। সেখান থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও শহরে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন