ইরান যাচ্ছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ইরান যাচ্ছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার খবরের মাঝেই এবার উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী সামরিক প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তিন দিনব্যাপী তেহরান সফরের পরপরই আকস্মিকভাবে সেনাপ্রধানের এই ইরান যাত্রা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও চমকপ্রদ সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ প্রতিনিধি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি গত তিন দিন ধরে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের ঠিক পরেই সেনাপ্রধানের এই জরুরি সফরকে কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।

অনেকের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত তিন দিনের বেসামরিক আলোচনা হয়তো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি, যার ফলে সৃষ্ট জটিলতা বা মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দূর করতে খোদ সেনাপ্রধানকে মধ্যস্থতায় নামতে হচ্ছে। তবে অধিকাংশ সামরিক কৌশলবিদ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁরা মনে করছেন, বেসামরিক পর্যায়ের আলোচনা এতটাই অভাবনীয়ভাবে সফল হয়েছে যে এখন একটি চূড়ান্ত দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের এই জরুরি তেহরান সফর।

geopolitical বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল আসিম মুনিরের এই তেহরান সফর চলমান বৈশ্বিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং শক্তিশালী একটি সংকেত। এর আগের তেহরান সফরেও তিনি ইরানের কেবল শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, বরং দেশটির অন্যতম নীতি-নির্ধারক ও প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের সাথেও সরাসরি ফলপ্রসূ বৈঠক করেছিলেন।

বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডিং অফিসারদের সাথে মনস্তাত্ত্বিক ও স্ট্র্যাটেজিক আলোচনা করার ক্ষেত্রে জেনারেল মুনিরের এক অনন্য সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই শান্তি চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা ইরানি সামরিক নেতৃত্বকে বোঝাতে তিনি অন্যতম সফল ভূমিকা রাখছেন।

দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন একটি ব্যাপকভিত্তিক স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খসড়া চুক্তি ঘোষণার চূড়ান্ত কাউন্টডাউন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের এই আকস্মিক তেহরান সফরকে চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার শেষ বা চূড়ান্ত ধাপ হিসেবেই দেখছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল। ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এই সফর হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন