মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

প্রযুক্তি ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল কোম্পানি ‘মেটা’ আবারও বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। আজ বুধবার (২০ মে) থেকে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক কর্মী মেটার মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই না করে নতুন দায়িত্ব ও বিভাগে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে তাদের মূল কাজ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট খাতে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার ঠিক আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের আকস্মিকভাবে ‘হোম অফিস’ বা বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের সময় মেটা সাধারণত এই পদ্ধতিই অনুসরণ করে থাকে। এরপর বিভিন্ন টাইম জোন (সময় অঞ্চল) অনুযায়ী ভাগ করে ধাপে ধাপে কর্মীদের ইমেইলের মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাঠানো হয়। কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকেই এই চাকরিচ্যুতির ইমেইল পান বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের দেখা মেটার একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আরও ‘ফ্ল্যাট’ বা সরল সাংগঠনিক কাঠামোয় যেতে চায়। মেটার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানান, নতুন কাঠামোয় বড় দল ভেঙে ছোট ছোট দল বা ‘পড’ গঠন করা হচ্ছে, যাতে কাজের গতি বাড়ে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ছাঁটাই মূলত মেটার কোনো সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ। মেটা চলতি ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আর এই বিপুল খরচের সমন্বয় করতে কোম্পানিটি পুরোনো ও প্রথাগত অনেক পদ স্থায়ীভাবে বাতিল করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এআই-ভিত্তিক ভূমিকা তৈরি করছে।

এই আকস্মিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর মেটার ভেতরে কর্মরত সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু কর্মী ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাওয়ার আগেই অফিস থেকে তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ল্যাপটপ চার্জার গোছাতে শুরু করেছেন। এছাড়া, কর্মীদের কাজ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য মেটা নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে একটি কাঠামোগত রূপান্তর চলছে এবং এই ছাঁটাই শুধু মেটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সিসকো সিস্টেমস, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং ওরাকলসহ একাধিক জায়ান্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই বা স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে তাদের কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেক নিয়মিত কাজ এখন সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলো বড় কর্মী-নির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে জটিল সমস্যা সমাধানে দক্ষ ও এআই পরিচালনায় পারদর্শী ছোট কিন্তু চৌকস দল গঠনের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন