ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শর্ত: যুদ্ধবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শর্ত: যুদ্ধবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসতে ৫টি মূল শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য এই শর্তগুলোর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফার একপেশে খসড়া প্রস্তাবের জবাবে ইরান এই ৫টি পাল্টা শর্ত বা 'কাউন্টার-প্রপোজাল' ছুঁড়ে দিয়েছে।

ইরানের দেওয়া ৫টি মূল শর্ত হলো: ১. লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে ইসরাইল ও মার্কিন যৌথ সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা।

২. ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

৩. বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানের সব আর্থিক সম্পদ কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্ত করা।

৪. চলমান যুদ্ধে ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ বা যুদ্ধাপরাধের অর্থ প্রদান করা।

৫. আন্তর্জাতিকভাবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মূলত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে স্থায়ীভাবে বাধা দিতে একটি ১৪ দফা চুক্তি চাপাতে চাচ্ছে। ওয়াশিংটনের খসড়া প্রস্তাবে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা, কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখা এবং হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেওয়া। বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে শিথিল করার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায়। জবাবে তেহরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন