ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সময়। এই দিনগুলো এমন এক মহামূল্যবান সুযোগ, যখন বান্দার নেক আমল আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে। একজন মুমিনের জন্য এ দশক আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, তাওবা, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক সুবর্ণ মৌসুম। নামাজ, রোজা, হজ, তাকবির, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও কোরবানির মতো মহান আমলের মাধ্যমে এ সময়কে সমৃদ্ধ করা মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ যেদিন আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূতের গণনা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বিধান অনুযায়ী বারটি। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)। এই চার মাসের মধ্যে জিলহজ মাসের ফজিলত সবচেয়ে বেশি। এ দশক এতটাই মহিমান্বিত যে, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এ দশ রাতের কসম করে ইরশাদ করেছেন, ‘শপথ ফজরের, শপথ দশ রাত্রির।’ (সুরা : ফাজর, আয়াত : ১-২)। মুফাসসিরদের মতে, এখানে ‘দশ রাত’ বলে জিলহজের প্রথম দশ রাতকে বুঝানো হয়েছে।
পবিত্র এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আমলের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো
বেশি বেশি জিকির ও তাসবিহ পাঠ করা: জিকির ও তাসবিহ আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক প্রিয় আমল। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলার নিকট জিলহজের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়।’ (মুসনাদে আহমাদ)
জিলহজ শুরু হলে নখ-চুল না কাটা: জিলহজের প্রথম দশকে নখ-চুল না কাটার মাধ্যমে হাজিদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা যায়, যা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন জিলহজের প্রথম দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানি করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম)
জিলহজের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা: ফোকাহায়ে কেরাম জিলহজের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা উত্তম বলেছেন। কারও পক্ষে সম্ভব হলে সে পুরো নয় দিনই রোজা রাখবে। হাদিসে এসেছে, ‘মহানবী (সা.) জিলহজের নয় দিন রোজা রাখতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
বিশেষভাবে নয় জিলহজ (আরাফার দিন) রোজা রাখা: কারও পক্ষে যদি পুরো নয় দিন রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে সে অন্তত নয় জিলহজ রোজা রাখবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের (নয় জিলহজের) রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যে, এর দ্বারা আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম)
জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা: হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন।’ (সহিহ মুসলিম)
বেশি বেশি দোয়া করা: আরাফার দিন জিলহজের প্রথম দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফার দোয়া। এ দিনের দোয়া হিসেবে সর্বোত্তম হলো ঐ দোয়া, যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীরা করেছেন।’ তা হলো— ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’
হজ ও ওমরাহ সম্পাদন করা: হজ ও ওমরাহ হলো এ দশকের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারাস্বরূপ আর কবুল হজের প্রতিদান কেবলই জান্নাত।’ (সহিহ বুখারি)
পশু কোরবানি করা: জিলহজ মাসের দশম দিন প্রত্যেক সামর্থ্যবান ও নেসাব পরিমাণ মালের মালিকের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব।
ঈদুল আজহার নামাজ পড়া: ঈদুল আজহার নামাজ প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের ওপর ওয়াজিব। সূর্যোদয়ের ২০-৩০ মিনিট পর থেকে দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাজ পড়া যায়। ঈদুল আজহার নামাজ একটু তাড়াতাড়ি পড়াই উত্তম।
জিলহজের প্রথম দশক একজন মুমিনের জীবনে আখিরাতমুখী পরিবর্তনের এক অনন্য সুযোগ। তাই এ বরকতময় সময়কে অবহেলায় নষ্ট না করে বেশি বেশি ইবাদত, জিকির, তাওবা ও নেক আমলে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা অনুধাবন করে সর্বোত্তমভাবে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
|