নিজস্ব প্রতিবেদক: কাতারের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় অনন্য কৃতিত্ব স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশি গবেষক আলেম ড. হোছাইন মোহাম্মদ নাঈমুল হক। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি নিজের ব্যাচের প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী হিসেবে কাতারের আমির শায়খ তামিম বিন হামাদ আলে থানির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছেন।
গত ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত জমকালো ৪৯তম সমাবর্তনে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৯০২ জন গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন, যাদের মধ্যে ১৮০ জন মেধাবীকে আমিরের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কাতার আমিরের পাশে ড. নাঈমুলের দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই অর্জনকে প্রবাসীদের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছে।
ড. নাঈমুলের পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল ‘মাকাসিদ ও উপকারবাদী চিন্তাধারায় মাসলাহা তত্ত্ব: একটি তুলনামূলক গবেষণা’। ছাত্রজীবন থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখা এই গবেষক বর্তমানে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে ২০১৪ সালেও তিনি স্নাতক পর্যায়ে কৃতিত্বের জন্য আমিরের হাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সন্তান ড. নাঈমুল হক ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে হিফজ সম্পন্ন করেন এবং পরে জামেয়া দারুল মা‘আরিফ আল-ইসলামিয়ায় পড়াশোনা করেন। ২০০৫ সালে কাতার সরকারের বৃত্তি নিয়ে দেশটিতে পাড়ি জমান তিনি। ২০০৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কাতারে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এছাড়া তিনি দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকেও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
গবেষণার পাশাপাশি ড. নাঈমুলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা রয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে লেখা আরবি উপন্যাস ‘নাফ নদীর দুই তীরে’ এবং কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া ইসলামের ফিকহ ও রাজনীতি বিষয়ক তাঁর বহু প্রবন্ধ নামী সব জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে আরেক বাংলাদেশি তরুণ এনামুল হকও কৃতিত্বের সাথে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন, যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান মেধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।