দেড় বছর পর মা জানলেন ছেলে ইসরায়েলি কারাগারে জীবিত

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ণ
দেড় বছর পর মা জানলেন ছেলে ইসরায়েলি কারাগারে জীবিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ২৫ বছর বয়সী যুবক ঈদ নাহেল আবু শার। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তাঁর পরিবার জানত তিনি আর বেঁচে নেই। গাজার ধ্বংসস্তূপ আর হাসপাতালের মর্গে হন্যে হয়ে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজেছে পরিবারটি, এমনকি সরকারিভাবে তাঁর মৃত্যুসনদও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছর পর এক অলৌকিক খবরে স্তব্ধ হয়ে গেছে তাঁর পরিবার—ঈদ জীবিত আছেন এবং তিনি ইসরায়েলের ওফের কারাগারে বন্দি।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পরিবারের জন্য আর্থিক সংস্থান করতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ঈদ। তৎকালীন মধ্য গাজার বিপজ্জনক ‘নেতজারিম করিডর’ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিখোঁজ হন। ঈদের বাবা নাহেল আবু শার বলেন, "আমি আল-আকসা, আল-আদওয়া ও নুসেয়িরাতের প্রতিটি হাসপাতালের মর্গে গিয়েছি। অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ এলেই রেফ্রিজারেটর খুলে ঈদের কাপড়ের চিহ্ন খুঁজেছি। কোথাও কিছু না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা শোক পালনের তাঁবু গেড়েছিলাম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যুসনদ নিয়েছিলাম।"

পুরো পরিবার আশা ছেড়ে দিলেও ঈদের মা মাহা আবু শার কখনোই বিশ্বাস করেননি তাঁর ছেলে মারা গেছে। তিনি বলেন, "সবাই জানাজা করার কথা বললেও আমার মন বলত ঈদ বেঁচে আছে।" গত সোমবার এক আইনজীবীর অপ্রত্যাশিত ফোন কলে সেই বিশ্বাসের জয় হয়। জানা যায়, ঈদ এখন ইসরায়েলি কারাগারে আটক। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাজাজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং পরিবারটি মিষ্টি বিতরণ করে দিনটি উদযাপন করে।

ঈদের ঘটনাটি ব্যক্তিগত জয় মনে হলেও এটি গাজার সামগ্রিক সংকটের একটি ভয়াবহ রূপ। ‘প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর দ্য মিসিং অ্যান্ড ফোর্সিবলি ডিসঅ্যাপিয়ারড’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় সাত থেকে আট হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার জনকে ইসরায়েলি কারাগারে জোরপূর্বক গুম করে রাখা হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক নাদা নাবিল বলেন, "এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর মানসিক যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল। ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দিদের তালিকা গোপন রাখে।"

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রেড ক্রসকে (আইসিআরসি) ইসরায়েলি কারাগার পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো ‘অস্পষ্ট ক্ষতি’ বা ‘অ্যাম্বিগুয়াস লস’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে ৯ হাজার ১২৮ জন ফিলিস্তিনি আটক ছিলেন, যার মধ্যে গাজা উপত্যকা থেকেই আটক করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৭ জনকে।

মন্তব্য করুন