নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে এক দিনের সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) প্রসিকিউশনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় তাঁকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে প্রসিকিউশন পক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময় তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ওই সময় তিনি 'গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির' সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বিতর্কিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে এক দিন জেলগেটে বা নির্ধারিত স্থানে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।