আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে দেশটিকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘটা সামরিক সংঘাতকে পাকিস্তান ‘মারকা-ই-হক’ (সত্যের যুদ্ধ) হিসেবে অভিহিত করে। এর এক বছর পূর্তিতে আয়োজিত সম্মেলনে জেনারেল শরিফ চৌধুরী বলেন, "তোমরাই (ভারত) সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের যে ভারতীয় বয়ান ছিল, তা এখন সমাধিস্থ হয়েছে।"
আইএসপিআর প্রধান এই সংঘাতের ১০টি ‘কৌশলগত পরিণতি’ তুলে ধরেন। তাঁর মতে:
সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ: পাকিস্তান কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ভারতকে সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত করার ভারতীয় চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা: পাকিস্তান এখন এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ: তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের পেশাদার সামরিক বাহিনী এখন রাজনীতিকরণ হয়েছে এবং সেদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সামরিকীকরণের দিকে ঝুঁকছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে এবং এর জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর ধাক্কা সামলাতে ভারত আফগান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান এবং বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলার পর পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে এসেছে।