আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অন্তত ২২৮টি প্রতিরক্ষা স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জাম পুরোপুরি ধ্বংস অথবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান মূলত ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও যোগাযোগ সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেন্টকম (CENTCOM) অঞ্চলের অন্তত ১৬টি ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক মাধ্যম টিডব্লিউজেড (TWZ)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ৩৯টি সামরিক বিমান হারিয়েছে, যার মধ্যে ৪টি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৬ মে ২০২৬) হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান রাডার থেকে উধাও হয়ে যায়। প্রায় ৫২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের প্রাথমিক ব্যয় হবে প্রায় ২৫ বিলিয়ন (২৫০০ কোটি) ডলার। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে পেন্টাগন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, এই যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল, তবে মার্কিন সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটিকে ‘পুরোপুরি ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে কমান্ডাররা ইতিমধ্যেই ইরানি হামলার আওতার বাইরে তাদের বাহিনীর বড় একটি অংশকে সরিয়ে নিয়েছেন।